নানাবিদ সমস্যায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত

মোঃ বেলাল হোসাইন, চৌদ্দগ্রাম :–
৫০ শয্যা বিশিষ্ট চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষের বিনামূল্যে সেবা গ্রহনের একমাত্র ঠিকানা। হাসপাতালটিতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি সেক্টরের জেনবল সংকট, জেনারেটরের সমস্যা, এ্যাম্বুলেন্স সমস্যা, এক্স-রে মেশিনের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি নানাবিদ সমস্যায় হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রমে বেশ বেগতিক অবস্থা। এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়ছে মারাত্বক দুর্ভোগে। বঞ্চিত হচ্ছেন কাঙ্খিত সেবা থেকে। সৌদি সরকার কর্তৃক প্রদানকৃত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন থেকে বিকল। গত বেশ কয়েক বছর থেকেই এ্যাম্বুলেন্সটি থেকে কোন সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। এতে করে এক শ্রেণীর অসাধুু মাইক্রো চালক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূমুর্ষ্য বিভিন্ন রোগীদের অনেক বেশি ভাড়ায় কুমিল্লা এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে বাধ্য করা হয়। ঐ অসাধু চক্র নাম দিয়েছে সেবা নামে কিন্তু তাদের কাজ সম্পূর্ণ উল্টো। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবী করেন চলতি বছরের জুন-জুলাই মাস থেকে এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল। দীর্ঘদিন থেকে না চলার কারনে এ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে প্রায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে চৌদ্দগ্র্মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায় সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর জেনারেটর সচল থাকা সত্বেও জেনারেটরের সংযোগ নেই। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারনে হাসপাতালের বেডে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা শিশু এবং বৃদ্ধরা ভ্যাপসা গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ভুক্তভোগী এক রোগী গত সোমবার রাতে জানান, গত ৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। এর মধ্যে প্রতিদিনই রাতে বিদ্যুৎ চলে যায় কিন্তু ৫ দিনে একদিনও জেনারেটরের সংযোগ প্রদান করা হয় নাই। ৫০ শয্যার হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাখাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু পাখা দীর্ঘদিন থেকেই নষ্ট। যার কারনে বিদ্যুৎ থাকলেও ঐ শয্যার রোগীরা প্রচন্ড গরমে বেশ কষ্টের মধ্যেই থাকতে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের পূরাতন ০২টি ওয়ার্ডে পাশের পায়খানার ময়লার দুর্ঘন্ধে অনেক সময় রোগীরা বেডে থাকতেও কষ্ট হয় বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন রোগী।
হাসপাতালের এক্স-রে রুমের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতেও রয়েছে সমস্যা। হাসপাতালের আল্ট্রা মেশিনটি অজানা কারনে অনেক দিন থেকেই ব্যবহারের বাইরে। এছাড়াও এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিনের পুরাতন মডেলের মেশিন হওয়ায় তা দিয়ে মাথা স্ক্যান, বক্ষ স্ক্যান এবং মোটা লোকদের এক্সরে হয়না বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এছাড়া পর্যাপ্ত নার্স সংকটের কারনে রোগীতে পরিপূর্ণ থাকা হাসপাতালের রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে। নার্সিং সুপারভাইজার সুনন্দা বনিকের দেওয়া তথ্যমতে ১৫ জন নার্সের পদ থাকলেও বর্তমানে নার্স আছে মাত্র ৮ জন। প্রধান সহকারী ডা: মোজাম্মেল হোসেন দাবী করেন হাসপাতালে ১১ জন নার্স আছে। এদের মধ্যে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নামের নার্সিং পোষ্টের একজন কর্মচারী যোগদানের পর থেবে থেকেই এখনো অনুপস্থিত। সে ০৩.১০.২০১৩ ইং তারিখে সরকারীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা ইতিপূর্বে মাহবুবুর রহমানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
উপরোক্ত সমস্যাগুলোর বিষয়ে সদ্য যোগ দেওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: নাসির উদ্দিন অভিযোগগুলির বেশ কয়েকটি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, জেনারেটর প্রায়ই চলে মাঝে মধ্যে তেল না থাকলে চলে না। তাছাড়া জেনারেটর খাতে সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দও নেই বলে তিনি দাবী করেন। এ্যাম্বুলেন্স বিকলের বিষয়ে তিনি জানান, ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন সংগ্রামের সময় দীর্ঘদিন এ্যাম্বেুলেন্সটি বের হতে না পারায় বর্তমানে গত জুন মাস থেকে এ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ডেমেজ অবস্থায় আছে বলে তিনি জানান। এছাড়া হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন এবং আল্ট্রার বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মোছলে উদ্দিন ভূঁইয়াকে রুমে নিয়ে আসলে তার স্বীকারোক্তিতে তিনি তা আংশিক স্বীকার করেন। নার্স সংকটের বিষয়ে তিনি এবং প্রধান সহকারী মোঃ মোজাম্মেল জানান, নার্সের ১৫টি পোষ্টের মধ্যে বর্তমানে ১০ জন এবং যোগদানের পর থেকে অনুপস্থিত ১ সহ ১১জন আছে। বাকীদের নিয়োগের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত কর হয়েছে বলেও তারা দাবী করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...