কুমিল্লায় মহাত্মা গান্ধীর ১৪৭ তম জন্মজয়ন্তী ও আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস পালিত

 
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা প্রতিনিধি :–
মোহনদাস করমচাঁদ মহাত্মা গান্ধীর ১৪৭-তম জন্মজয়ন্তী ও আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উদযাপন উপলক্ষে কুমিল্লা অভয় আশ্রমের আয়োজনে গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় কুমিল্লা লাকসাম রোডস্থিত অভয় আশ্রম সম্মেলন কক্ষে “বিশ্ব শান্তিতে গান্ধিবাদের ভূমিকা” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কুমিল্লা অভয় আশ্রমের ব্যবস্থাপক উপ-সচিব (অবঃ) মতিলাল ভদ্রের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন- কুমিল্লা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর পরিমল কান্তি পাল এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নৃপেন চক্রবর্ত্তী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, এপিপি অ্যাড. গোলাম ফারুক, কুমিল্লার ডাক প্রতিদিনের স্পেশাল রিপোর্টার এম. এম আব্দুল্লাহ, শুভাকাংখী মোঃ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল দে প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেছেন- মোহনদাস করমচাঁদ মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর উত্তম চাঁদ বা উতা গান্ধী’র ঘর আলোকিত করে এ ধরাধামে আর্বিভূত হয়েছেন। অহিংস নীতির প্রবর্তন, ভারত স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রদূত ছিলেন মোহনদাস করম চাঁদ গান্ধী অর্থাৎ মহাত্ম গান্ধী। তাঁর অহিংস নীতির কারণে শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্ত হয়েছে। ভারতের উগ্রবাদী সংগঠন তাঁর অহিংস নীতি মেনে নিতে পারেননি বিধায় ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারী বিড়লা ভবনে নাথুরাম বিনায়ক গড্সে নামক এক উগ্রবাদী হিন্দু কর্মীর বুলেটের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন শান্তির দূত মহ্ত্মা গান্ধী। তাই আমাদের এক নতুন আধুনিক সমৃদ্ধ পৃথিবী উপহার দিতে বর্তমান বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর দর্শন অনুসরণ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেছেন- ১৯৭১সালে কুমিল্লা অভয় আশ্রমের ঘরগুলো পুড়ে দেওয়ার ফলে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং ছাত্রাবাস পরিচালনার মাধ্যমে আশ্রমটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে যায়। গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্ট অভয় আশ্রম গ্রহণ করায় পুনরায় শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল স্থাপনের কর্মসূচী গ্রহণ করে। বর্তমানে এখানে সরকার অনুমোদিত একটি কম্পিউটার ইনষ্টিটিউট, মেডিকেল টেক ইনষ্টিটিউট চালু করা হয়েছে। প্রতি বছর কম্পিউটার ইনষ্টিটিউট থেকে ৬০জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বোর্ডের সনদ প্রাপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিতে ৭০/৮০জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং গান্ধী মেমোরিয়াল শিশু শিক্ষালয় ও অভয় আশ্রম সংগীত নিকেতন চালু করা হয়েছে।
এর আগে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা শেষে পবিত্র ঋৃগবেদ, কোরান তেওয়ালাত, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। এ সব পবিত্র ধর্ম গ্রহন্থ পাঠ করেন- ঋৃগবেদ পাঠ করেন- অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী রাজু, কোরান তেওয়ালাত পাঠ করেন- ইফতেখার উদ্দিন মেহেদী, বাইবেল পাঠ করেন- কুমিল্লা ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের পুরোহিত ইসহাক সরকার ও ত্রিপিটক পাঠ করেন- ছোটন বড়–য়া। এর পর সন্ধ্যায় এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানসূচীর সমাপ্তি ঘটে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...