কুমিল্লায় সন্ত্রাসী জিরা সুমন নিহতের ঘটনায় জনমনে স্বস্থি

মো: কামাল উদ্দিন :–

কুমিল্লা নগরবাসীর কাছে রীতিমতো আতংক ছিল তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বেলাল ওরফে জিরা সুমন। ছিচকে ছিনতাইকারী থেকে নাম উঠে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায়। প্রকাশ্যে সিনেমা স্টাইলে ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করে অস্ত্র লুটে নেয়ার পর তাকে নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাকে আটক করতে ডিবি ও থানা পুলিশের কয়েকটি টিম চষে বেড়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু ফলাফল ছিল শূন্য। এরই মধ্যে ২ ডজন মামলার আসামী হয়েও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একাধিকবার নগরীতে আসে জিরা সুমন। গোপনে সে নিয়ন্ত্রন করতো জিরা বাহিনী। তাকে আটক করতে পুলিশের চেষ্টারও অন্ত ছিল না। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্য রাতে ডিবি পুলিশের সাথে গুলি বিনিময়ে নিহতের পর জিরা সুমন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। জিরা সুমন নিহত হওয়ার খবরে তার এলাকার লোকজন ছাড়াও নগরীতে স্বস্থি নেমে এসেছে। তার বাহিনীর সদস্যরাই নগরীতে ছিনতাই, চুরিসহ নানা অপরাধমমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল।
ডিবির এস.আই শাহ কামাল আকন্দ জানান, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশ্রাফের নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম ব্রাহ্মণপাড়া থেকে অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে শহরে ফেরার পথে কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের পালপাড়া ব্রিজের নিকট জিরা সুমন তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী জিরা সুমন আহত হয়। তাকে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে গুলি বিনিময়ে জিরা সুমন নিহতের ঘটনায় আজ বুধবার বেলা ১১টায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রেস বিফ্রিং দেয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৬ নভেম্বর দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর ঝাউতলায় সন্ত্রাসী জিরা সুমনকে আটক করতে গিয়ে গুলিতে আহত হন ডিবির এস.আই ফিরোজ হোসেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ এসআই ফিরোজের সরকারী পিস্তল লুটে নেয় জিরা বাহিনী। পরে ডিবি ও থানা পুলিশের কয়েকটি টিম জিরা বাহিনীকে আটক করতে মাঠে অভিযান শুরু করে। জিরা সুমনকে আটক করতে রীতিমত পুলিশের গলদঘর্ম অবস্থার সৃষ্টি হয়। ৯ নভেম্বর সকালে সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় জিরা সুমনের সহযোগীদের আটক করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়ের সময় নিহত হয় জিরা সুমনের সহযোগী তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী নগরীর দৌলতপুরের বাবুলের পুত্র রাব্বী (২০), অশোকতলার মৃত কালু মিয়ার পুত্র জনি (২৫)। কিন্তু তাদের পরিবার তখন লাশ গ্রহন না করায় লাশ হিসেবে আঞ্জুমানে হস্তান্তর করার পর বেওয়াারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। নিহতের আগেই সন্ত্রাস-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে রাব্বী জড়িত হয়ে পড়ায় এবং ভাল পথে আনতে ব্যর্থ হয়ে ১০ বছর আগে তাকে পরিবার থেকে ত্যাজ্য করেছিল। তাই তার লাশ গ্রহণ করেনি পরিবার। তবে জিরা সুমন, তার সহযোগী রাব্বী ও জনি নিহত হলেও জিরা বাহিনীর আরো অন্তত ১০/১২ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...