মনোহরগঞ্জে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতায় বাল্য বিয়ে বন্ধ

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:—
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় হাসনাবাদ ইউনিয়নের জিনারাগ গ্রামের নজির আহম্মেদের মেয়ে রাবেয়া আক্তার (১৩) এর বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। জানা যায়, হাসনাবাদ এ হাকিম দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া আক্তারের বিবাহ হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। এর আগে বিবাহের সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এ দিকে রাবেয়া আক্তারের বিবাহের কথা শুনতে পেয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তানজুমা পারভীন লুনা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মোঃ তৈয়ব হোসেন ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তীর সহযোগিতায় এই বাল্য বিবাহটি বন্ধ করা হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, আমরা এ বাল্য বিবাহ হওয়ার কথা শুনতে পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করি। পরে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সহযোগিতায় মেয়ের বাবা নজির আহম্মেদের সাথে কথা বলি। পরে বিবাহটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, বাল্য বিবাহ হওয়ার খবর শুনতে পেরে আমরা সাথে সাথে তা বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করি। ভবিষ্যতে এ রকম বাল্য বিবাহ হওয়ার কথা শুনলে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই তিনি বাল্য বিবাহ হওয়ার খবর উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মনোহরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বাল্য বিবাহটি হওয়ার খবর শুনতে পেরে সাথে সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার ও মেয়ের বাবার সাথে যোগাযোগ করা হয়। এছাড়াও তাদেরকে বিবাহটি বন্ধ করার জন্য বলা হয়। ভবিষ্যতে বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মুনাফ জানান, উপজেলা প্রশাসন ও থানা থেকে খবর পাওয়ার পর মেয়ের বাবাকে বলা হয়েছে যাতে বিয়ে না হয়। পরে ঐ বিবাহটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জিনারাগ ওয়ার্ড মেম্বার আবদুর রহিম জানান, উপজেলা থেকে খবর পাওয়ার পর ঐ বাল্য বিবাহটি বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আমার ওয়ার্ডে কোন বাল্য বিবাহ হতে দেওয়া হবে না। হাসনাবাদ এ হাকিম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মকবুল আহম্মেদ জানান, রাবেয়া আক্তার আমাদের মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার রোল নং-১৬। তার বাল্য বিবাহ বন্ধ হওয়ার খবর শুনেছি। এই বাল্য বিবাহটি বন্ধ করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মনোহরগঞ্জবাসী ধন্যবাদ জানান। তারা ভবিষ্যতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাল্য বিবাহ বন্ধ করার দাবী জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...