মুসলিম এইডের বিনিয়োগ গ্রহন বরে ঝর্ণা রানী পাল এখন স্বাবলম্ভী

মােঃ বেলাল হোসাইন:–
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পৌর এলাকার ঝর্ণা রানী পাল মুসলিম এইড চৌদ্দগ্রাম শাখা থেকে ঋন গ্রহন করে এখন স্বাবলম্ভী। সে পৌর এলাকার চন্ডীপুর গ্রামের দিনমজুর হারাধন মিয়ার স্ত্রী। একসময় সে ছিল জীবন সংসারের অভাবগ্রস্থ নারী। তার স্বামী ছিল দিনমজুর। অভাবের সংসারে ৪ ছেলেমেয়েকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে ঝর্ণা রানী সাহস করে সিদ্ধান্ত নিলেন ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর। এতে করে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বেচে থাকাই যেন তাদের জন্য দায়। এই পরিস্থিতিতেই ঝর্ণা রানী পাশের জন্য আর্শিবাদ হয়ে দেখা দিল মুসলিম এইড চৌদ্দগ্রাম শাখা। ঝর্ণা রাণী পাল মুসলিম এইড চৌদ্দগ্রাম শাখায় হয়ে ভর্তি হয়ে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করে। উক্ত ঋনের টাকায় সে ( মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টব) সহ বিভিন্ন প্রকার মাটির তৈরী মৃতশিল্প তৈরির কাজ শুরু করেন। একাগ্র মনোযোগ এবং পরিশ্রমের ফলে শ্রীগ্রাই সে এই পেশায় উন্নতি লাভ করে। এক পর্যায়ে সে ব্যবসা সম্প্রসারিত করে এবং এতে করে সে তার তৈরি করা বিভিন্ন মৃতশিল্প পাইকারী বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেয়। ভালো কাজ দেখে পাইকাররাও এতে সাড়া দেয়। এতে করে তার তৈরি মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টব পাইকাররা তার কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ঝর্ণা রানী পালের ব্যবসায় উন্নতি দেখে মুসলিম এইড চৌদ্দগ্রাম শাখা তাকে ক্রমান্নয়ে চার বারে মোট ১০৫০০০/-(একলক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা বিনিয়োগ প্রদান করে। নুতন বিনিয়োগ পেয়ে ঝর্ণা বেগম আরো বড় আকারে ব্যবসা শুরু করে। ঝর্ণা রাণী পাল অনেক উন্নতি করেন এবং তার মৃতশিল্পকে আরো সম্প্রসারিত করেন বর্তমানে সে প্রতি মাসে তিনি বাড়তি আয় করেন ১২থেকে ১৫ হাজার টাকা। তার ব্যবসা সম্প্রসারন এবং উন্নতির ফলে বর্তমানে তার স্বামী হারাধন চন্দ্র পালকেও আর দিনমজুরের কাজ করতে হয় না। তিনিও তার স্ত্রী সাথে মৃতশিল্পের ( মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টব) সহ বিভিন্ন প্রকার মাটির তৈরী জিনিস পত্রের কাজ করে থাকেন। বর্তমানে তার ৩ মেয়ে ১ ছেলে,বড় মেয়ে দশম শ্রেণীতে, দ্বিতীয় মেয়ে চতুর্থ শ্রেণী, তৃতীয় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণী ও ছোট ছেলে নার্সরীতে পড়া লেখা করে।
এই বিষে চৌদ্দগ্রাম শাখা ব্যবস্থাপক মুহিতুর রহমান বলেন, ঝর্ণা রানী পাল আমাদের কর্মকান্ড দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রথমে ১৫,০০০/- টাকা ঋন গ্রহন করে। এর পর ধীরে ধীরে আমাদের পরামর্শে ও সহযোগীতায় সে তার ব্যবসা সম্প্রসারন করে বর্তমানে স্বাবলম্বী। ঝর্ণা রানী পাল আবহমান বাংলার অবহেলিত নারী সমাজের গর্ব। বর্তমানে তার উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে আমরা তাকে আরও উৎসাহ উদ্দীপনা দিচ্ছি। যাতে করে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে নারীর ভূমিক অটুট থাকে।
ঝর্ণা রাণী পাল বলেন, মুসলিম এইড চৌদ্দগ্রাম শাখা তাকে আর্থিক সহযোগীতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা না দিলে হয়ত তিনি স্বামী-সন্তানদের নিয়ে এ ভাবে উঠে দাঁড়াতে পারতেন না। তিনি মুসলিম এইড চৌদ্দগ্রাম শাখা প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...