কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যথাযথভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্যাপিত হয়নি

নিজস্ব প্রতিনিধি :–
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যথাযথভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্যাপিত হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা মৎস্য বিভাগের খামখেয়ালীপনায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ যথাযথভাবে উদযাপিত হয়নি। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপন ও কর্মসূচি পালনে প্রচারণা, গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, প্রকৃত মৎস্যজীবিদের স্মার্ট কার্ড প্রদান করার কথা বলা হয়েছে কিন্তু হয়েছে এর উল্টোটা’।
জানা গেছে, দেশে সৎস্য সম্পদকে এগিয়ে নিতে ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। কিন্তু দাউদকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার খামখেয়ালীপনায় সরকারি কর্মসূচির এই মহৎ উদ্দেশ্যটি ব্যাহত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বাজেট থাকলেও ৭ দিনব্যাপি কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় একজন সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে র‌্যালি বের হলেও ২ মিনিটের মধ্যে ফটোসেশন করেই তা শেষ করা হয়। মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে প্রচারণার কথা থাকলেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। কারেন্টজাল খোলাবাজারে বিক্রি ও অবাধ ব্যাবহারের প্রতি অনুৎসাহিতকরণে কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহন করেননি প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, হাট বাজারসহ উন্মোক্ত জনবহুল স্থানে মৎস্য সেক্টরে অগ্রগতি ও মৎস্য আইনসমুহ বাস্থবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক প্রচারণা চালানোর নির্দেশন থাকলেও মৎস্য কর্মকর্তা তা বাস্তবায়ন করেননি’। তিনি আরো বলেন. ‘দউদকান্দি উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারি কর্মকর্তা কাগজ কলমে টাকার হিসাব ঠিক রেখে কর্মসূচি বাস্তবায়ন দেখিয়ে সরকারি বাজেটের অর্থ আত্মসাৎ করছেন’।
এব্যাপারে উপজেলার উত্তর সতানন্দি গ্রামের মৎস্যজীবি প্রফুল্ল চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে এই পেশায় আছি। আমার বাপের এবং আমার মাছ ধরার লাইসেন্স থাকা সত্বেও আমি কার্ড পাইনি। আমার মত আরো অনেক জেলে রয়েছে যারা এ পেশায় থেকেও কার্ড পায়নি। অথচ যারা মাছের ব্যাবসা করেন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী তারা এ কার্ডের মালিক হয়েছেন’।
এ ব্যাপারে দাউদকান্দি মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, ‘কারেন্টজাল বিক্রি নিষিদ্ধের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা আছে বলে আমার জানা নেই। তবে এ জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এককভাবে কোন আলোচনা হয়নি। তবে উপজেলার আদমপুর সিসিডিএ অফিসে মৎস্য চাষীদের নিয়ে একটি সভা করা হয়েছে’। যারা স্মার্টকার্ড পায়নি পর্যায়ক্রমে তাদেরকেও এ কার্ড দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...