মনোহরগঞ্জে চার কলেজের ১২১৩ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন : সাত মাদ্রাসার ২৪৬ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:—
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আওতায় মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৪টি কলেজ থেকে মোট ১২১৩ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৭ জন। উপজেলার ৪টি কলেজের পাশের হার ৭৯.৩১ ভাগ। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের আওতায় মনোহরগঞ্জের ৭টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২৪৬ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন। ৭টি মাদ্রাসার মোট পাশের হার ৯৫.৯৩ ভাগ। মনোহরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মোঃ তৈয়ব হোসেন ফলাফলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল মতিন জানান, এ বছর মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২৩২ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে পাশ করেছে ২০৪ জন। ফেল করেছে ২৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ২৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ব্যবসায় বিভাগ থেকে ১১০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৯৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৮৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার শতকরা ৮৮ ভাগ। তিনি আরো জানান, এ বছর মনোহরগঞ্জের ৪টি কলেজের মধ্যে পাশের হার মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেশি। এছাড়াও ফলাফলের দিক দিয়েও মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। গত পাঁচ বছর ধরে মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম হয়ে আসছেন। নাথেরপেটুয়া ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ফিরোজ আহম্মদ মজুমদার জানান, এ বছর নাথেরপেটুয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ৪০৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে পাশ করেছে ২৭২ জন। ফেল করেছে ১৩২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাশের হার শতকরা ৬৯ ভাগ। শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ইসহাক মিয়া জানান, এ বছর শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩৬৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে পাশ করেছে ৩০৬ জন। ফেল করেছে ৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার শতকরা ৮৪.০৭ ভাগ। নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আবু জামাল খাঁন জানান, এ বছর নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ থেকে ২১৩ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে পাশ করেছে ১৮১ জন। ফেল করেছে ৩২ জন। কোনো ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পায়নি। পাশের হার শতকরা ৮৪.৯৮ ভাগ। অন্যদিকে ৭টি মাদ্রাসার মধ্যে লক্ষণপুর ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন। ফেল করেছে ১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। শাহপুর ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ২৭ জন। কোন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পায়নি। মনোহরগঞ্জ আলিম মাদ্রাসা থেকে ৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৪ জন। ফেল করেছে ৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। নরহরিপুর ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৩ জন। ফেল করেছে ১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। নাথেরপেটুয়া ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৫৫ জন। ফেল করেছে ৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। বিপুলাসার ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩০ জন। ফেল করেছে ১ জন। কোন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পায়নি। লাল চাঁদপুর ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৮ জন। কোন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পায়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...