মনোহরগঞ্জের মৎস্যচাষী জাহাঙ্গীর আলম পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:–
সাম্প্রতিক কালের প্রাকৃতিক বন্যা ও বিপর্যয়ে সারাদেশের ন্যায় মনোহরগঞ্জের বাইশগাঁও ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের এক সময়ের সফল মৎস্যচাষী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের মৎস্য প্রকল্প বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার ফলে সকল পুঁজি হারিয়ে বর্তমানে নিঃস্ব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার ৪টি পুকুর বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সকল মাছ চলে গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বাইশগাঁও ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত. কেরামত আলীর পুত্র মৎস্যচাষী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মনোহরগঞ্জ কৃষি ব্যাংক শাখা থেকে চলতি বছরের শুরুতে মৎস্য চাষী হিসেবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহন করে ব্যাপক আকারে মৎস্য চাষ করে স্বাবলম্বী হন। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করেন, এবং পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে সকলের নিকট সফল মৎস্য চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এছাড়াও তিনি আরো দশ লক্ষ টাকা ঋণ করে পুকুরগুলোতে মাছ শুরু করে। বর্তমানে তিনি প্রায় তের লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে খুবই চিন্তিত। জাহাঙ্গীর আরো বলেন- নিজের সম্পত্তি ২ একর জমিতে বেড়ি স্থাপন করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছ চাষ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মনোহরগঞ্জে বয়াবহ বন্যার কারণে তার ৪টি পুকুরের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ চলে যায়। সে তার মৎস্য প্রকল্প গুলোতে বানিজ্যিকভাবে মনোসেক্স তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, সরপুঁটি, মাগুর, রুই কাতল ও কার্পজাতীয় মাছ চাষ করে আসছিলেন। নিয়মিত মাছের খাদ্য দেওয়াতে উৎপাদন ভালো হয়েছিল, মাছের উৎপাদন ভালো হওয়াতে বিভিন্ন খাদ্য ডিলার থেকে ৬ লক্ষ টাকার বাকীতে খাদ্য ক্রয় করে মৎস্য প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ব্যাপক প্রাকৃতিক বন্যা ও বিপর্যয়ের ফলে সকল মৎস্য প্রকল্পের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে চলে যায়। বর্তমানে মৎস্য চাষী জাহাঙ্গীরের প্রকল্পগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে সকল পুঁজি হারিয়ে তিনি পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি দাবি জানান, সরকার যদি আবার তাকে ঋণ দেয় তাহলে সে মাছ চাষ করতে পারবে। পরিবারে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক মনোহরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মুঠোফোনে জানান- ‘‘মৎস্য চাষী জাহাঙ্গীর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সফল মৎস্য চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং তার ব্যাংকিং লেনদেন ও ভালো, কিন্তু বর্তমানে তার সকল মৎস্য প্রকল্প বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার কারনে পুঁজি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন’’। স্থানীয় চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, মনোহরগঞ্জের প্রায় ৮০ ভাগ মৎস্য চাষীর পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এমতাবস্থায় সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর যদি তাদেরকে ঋণদানের সুযোগ প্রদান করে থাকে তাহলে এই মৎস্য চাষীগুলো স্বাবলম্বী হতে পারবে। তাই আমাদের সরকারের প্রতি জোরালো দাবি মনোহরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষীদেরকে যাতে ঋণ প্রদান করা হয়। মৎস্যচাষী জাহাঙ্গীর আরো বলেন- ‘‘স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আর্থিক ভাবে সহযোগিতা না করলে আমি নিঃস্ব হয়ে যাব”। বন্যায় মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা বলে মৎস্য চাষী হারুন জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...