তিতাসে রাস্তা অবরোধ ও গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় ৫০ জনসহ প্রায় ৩ শতাধিক লোককে আসামী করে পুলিশের মামলা

নাজমুল করিম ফারুক :–
কুমিল্লার তিতাসে গৌরীপুর হোমনা সড়কের জিয়ারকান্দি বেইলী ব্রীজে উঠাকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ, যানবাহন ভাংচুর ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করায় উপজেলার ৮টি গ্রামের ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩ শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তিতাস থানা পুলিশ। অজ্ঞাতনামা তালিকায় ৩ শতাধিক আসামী থাকায় ঘটনাস্থলের আশেপাশের প্রায় ৩টি গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। এদিকে ঘটনারদিন অবরোধকারীদের দমনে যারা ভূমিকা পালন করেছে তাদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করায় এলাকায় বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর বেলায় উপজেলা কড়িকান্দি গ্রামের জহির মোল্লার ছেলের বিয়ের বরযাত্রী পার্শ্ববতী দাউদকান্দি উপজেলার ওলানপাড়া যাওয়ার পথে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের জিয়ারকান্দিতে গোমতি নদীর বেইলি ব্রীজের উত্তর পাশে পৌছলে ওভারটেকিং করে ব্রীজে উঠাকে কেন্দ্র করে একই উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালক মোঃ আল আমিনের সাথে বরযাত্রীদের বাকবিতন্ডার এক পর্যায় আল আমিনের সিএনজিতে থাকা অন্যান্য লোকজনও বরযাত্রীদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় বরযাত্রীদের সাথে থাকা কড়িকান্দি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার তিতাস সংবাদদাতা তাজুল ইসলাম গুরুত্বর আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এসময় বরযাত্রীদের কিছু লোক আল আমিনকে সিএনজিসহ আটক করে তিতাস থানায় নিয়ে আসে। উক্ত ঘটনায় শোলাকান্দি গ্রামের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকিং করা হলে আশেপাশের লোকজন গৌরীপুর-হোমনা সড়কের জিয়ারকান্দি ব্রীজের উত্তর পাড় থেকে দড়িকান্দি পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করতে চাইলে অবরোধকারীদের একটি অংশ দড়িকান্দি থেকে শিবপুর পর্যন্ত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১৫/২০টি সিএনজি ভাংচুর করে আতংক সৃষ্টি করে। এর পূর্বে অবরোধকারীরা একটি ঢাকা হোমনা সুপার সার্ভিসের বাস (ঢাকা-মেট্রো-জ-১১-৮৮৭) এর সমস্ত গ্লাস ও ৫টি সিএনজি ভাংচুর করে, একটি মোটর সাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-২১-৩১১০) পুড়িয়ে ফেলে। পুলিশের অভিযোগপত্রে তার ক্ষতিপূরণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এসময় গৌরীপুর বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তায় পায়ে হেঁটে তিতাস, হোমনা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় শত শত যাত্রী ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ও মাথায় করে মালামাল নিয়ে পাড়ি দিতে হয়।
এসময় ঘটনাস্থলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার ও তিতাস থানার অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা চালালে অবরোধকারীদের তোপের মুখে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং কিছু পুলিশ থানায় ফিরে আসে। সন্ধ্যা ৬টায় অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরাতে পুলিশ মারমুখি ভূমিকা নিলে অবশেষে অবরোধকারীরা পিছু হটে। উক্ত ঘটনায় বরযাত্রীদের পক্ষ থেকে কোন মামলা না করা হলেও তিতাস থানার এসআই মোঃ শফিকুল রহমান ভূঁইয়া বাদী হয়ে উপজেলার শোলকান্দির ৩৫, নারান্দিয়ার ১, জিয়ারকান্দির ৪, বন্দরামপুরের ১, দড়িকান্দির ৩, গোপচরের ৩, পেন্নাই-১ ও রামনগর গ্রামের ২ জনের নাম উল্লেখ করে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে তিতাস থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে। ঘটনারদিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শোলাকান্দি গ্রামের গণি ভূঁইয়ার ছেলে ফারুক হোসেন ভূঁইয়া, ইসমাইল হোসেনের ছেল জিন্নাত আলী, হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে জসিম ভূঁইয়া ও আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, জিয়ারকান্দির গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আলম সরকার ও আঃ গণি মিয়ার ছেলে মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
এদিকে, গত সোমবার উক্ত ঘটনার সময় আশেপাশের গ্রামগুলোর বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিক ব্যক্তি পুলিশের পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টায় এগিয়ে আসলেও তাদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করায় গতকাল বুধবার দিনভর উপজেলার সর্বত্র বিষয়টি সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। গ্রেফতার এড়াতে গত দু’দিন যাবৎ উপজেলার শোলাকান্দি, জিয়ারকান্দি ও দড়িকান্দি গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ আত্মগোপনে রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...