‘একটি জাতির জন্য আইনশৃংখলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আইন থাকলেই হবেনা, আইন প্রয়োগে শৃংখলা থাকতে হবে’—–সাবেক মন্ত্রী এএফএম ফখরুল ইসলাম মূন্সী

 

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :–

“একটি জাতির জন্য আইন শৃংখলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন থাকলেই হবেনা, আইন প্রয়োগে শৃংখলা থাকতে হবে।” বৃহস্পতিবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক বৈঠকে আ’লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি এবং প্রতি-মন্ত্রী এ,এফ,ফখরুল ইসলাম মূন্সী প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক অনাচার- অবিচার- অন্যায় এবং অনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিরোধে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর প্রদান করেন।
দেবিদ্বার উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভাপতি এবং দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমীন, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম সহিদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দাউদ হোসেন চৌধূরী, উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোঃ ইউছুফ, সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, মহিলা আ’লীগ কুমিল্লা (উঃ)জেলা সভানেত্রী শিরিন সুলতানা, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ কবির আহমেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা ইয়াছমিন, ডাঃ আ.ন.ম. বশির আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ জসীম উদ্দিন, মোঃ আবুল কাসেম, মোঃ জহীরুল হক ভূঞা, খন্দকার এম.এ সালাম, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ হারুন-অর-রশিদ, মোঃ আব্দুল হাকিম, মোঃ এম, এ, রশীদ প্রমূখ।
আলোচকগন রমজান মাস ও ঈদের সময় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এবং হাইওয়ে সড়ক থেকে সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্ত তুলে ধরে বলেন,- জান-মালের নিরাপত্তায়, প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা এবং দূরপাল্লার যান ও মাল পরিবহন নির্ভিগ্নে চলাচলে হাইওয়ে সড়ক থেকে সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা প্রত্যারের সিদ্ধান্ত যুগপত এবং সময়োপযোগী, কিন্তু সরকার কোন পরিকল্পনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশৃংখলা ডেকে আনার কারন হিসেবেও কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। হাইওয়ে সড়কের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন আঞ্চলিক সড়কগুলোর ক্ষেত্রেও এনীতি অবলম্বনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আলোচকরা বলেন, সড়কের ধারন ক্ষমতার উপর নির্ভর করেই সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা আমদানী ও গ্রাহকদের কাছে নিবন্ধন করেই হস্তান্তর করেছেন। সড়কের ধারন ক্ষমতার বাহিরে আর কোন সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার অনুমোদন দিচ্ছেননা। তাহলে নিশ্চই সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা আমদানীর ক্ষেত্রেও নীতিমালা বা সীমাবদ্ধা রেখেছেন। তাহলে সরকার কর্তৃক অনুমোদনের বাহিরে কয়েকগুন বেশী সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা সড়কে বিচরন করছে কিভাবে ? বিদ্যমান সরকার ক্ষমতায় থাকতে অতিরিক্ত সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা কিভাবে কারা আমদানী করছেন এবং গ্রাহকের কাছে আসছে ? এসব সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সাগুলো কেনায় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকসহ এনজিওগুলো কিভাবে ঋণ দিচ্ছেন বা গ্রেন্টার হচ্ছেন ? যেগুলোর কোন নিবন্ধনও নেই, এগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধন বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স, এক সময়ের পালকি বেগার পরিবর্তীতে নৌকা চালকে বনে যান। নৌপথের বিড়ম্বনায় রিক্সায় উঠেন। মূর্খ, অপরিপক্ক, অনিভিজ্ঞ রিক্সা চালকরাই এখন সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার চালক হয়েছেন। শুধু তাই নয়,- ১২-১৫ বছর বয়সী শিশুদের অধিকাংশই এখন চালক। এসব চালকরা সড়কে উঠে প্রতিযোগীতায় নামে ২/৪ লাইনে দ্রুত গতিতে ওভার টেক করার সময় দূর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। তাদের কারনে সড়কে সীমাহীন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এটার প্রধান কারন উল্লেখ করে আলোচকগণ আরো বলেন, সরকারী দলের নেতা-কর্মী ও আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনীকে অবাধে চাঁদাবজীর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার জন্য নির্ধারিত কোন স্ট্যাশন না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের মাধ্যমে সামান্য টাকার বিনিময়ে ইজারা দিচ্ছেন। ইজারাদাররা প্রতিটি সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা থেকে বার্ষিক রেজিষ্ট্রেশন বাবত এক থেকে আড়াই হাজার টাকা আদায় করছেন। পুলিশের নামে মাসিক চার থেকে আটশত টাকা আদায় করছেন। রোডে গাড়ি উঠলে প্রতি দিন পঞ্চাশ টাকা জিবি আদায় করছেন। এক স্ট্যাশন থেকে অন্য স্ট্যাশনে ভাড়া যদিও পঞ্চাশ টাকার তার পরও যাত্রী এমনকি জরুরী রুগী বহনকারী সিএনজি গুলো অতিরিক্ত সাড়ে চারশত থেকে পাঁচশত টাকা দিতে হচ্ছে। না দিলে মার-ধর, লাঞ্ছিত এমনকি সিএনজি হারাতে হচ্ছে। এসব অনৈতিক কর্মকান্ড দেখার যেন কেউ নেই। সরকার রেজিষ্ট্রেশন বন্ধ করে দিয়ে রাষ্ট্রের কোষাগারে আয়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজারের বেশী সিএনজি চালিত অটো রিক্সা রয়েছে। যেগুলোর রেজিষ্ট্রেশন ফি’র নামে এক হাজার টাকা করে আদায় হলে পাঁচ হাজার সিএনজি থেকে পাঁচ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে। এটাকা সরকারের কোষাগারে জমা হলে পাঁচ বছরের জমানো টাকায় একটি পদ্মা সেতু নির্মান করে টাকা বাঁচানো সম্ভব।
তাছাড়া প্রশাসন কিংবা ইজারাদারের পক্ষ থেকে- এক স্ট্যাশন থেকে অন্য স্ট্যাশনে গমনকৃত সিএনজি চালিত ভাড়ার কোন নীতিমালা নেই। তাই ইচ্ছে-স্বাধীন ভাবেই সিএনজি চালকারাও পাঁচ টাকার ভাড়া পনের থেকে বিশ টাকা আদায় করছেন। এনিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়তই অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটছে।
হাইওয়ে সড়ক থেকে সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা উচ্ছেদ হলে সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ্য হবেন জরুরী কাজে গমনকারী এবং গ্রামের মূমূর্ষ রোগীরা। তাছাড়া সিএনজি চালিত অটো রিক্সাগুলো প্রতি দিনের গ্যাস নিতে হাইওয়ে সড়ক দিয়ে সিএনজি স্ট্যাশনে পৌঁছতে নানা বিড়ম্বনার শিকারও হতে হবে।
আলোচকদের এসব আলোচনা ও সিদ্ধান্তগওলো সরকার বিবেচনায় এনে জণস্বার্থে সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা এবং চালকদের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রনয়ন করার প্রস্তাব আকারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহীত করার জন্য স্থাানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...