‘মৎস চাষের উন্নয়ন এবং হারিয়ে যাওয়া মাছ ফিরিয়ে আনতে আইনের উপর নির্ভর করে সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি- ইউ.এন.ও দেবিদ্বার

 

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :—

‘মৎস চাষের উন্নয়নে খাল-বিল-নদী-নালার গতিপথ রক্ষা এবং কীটনাশক- ফরমালিনসহ বিভিন্ন বিষাক্ত ঔষধের প্রভাবে হারিয়ে যাওয়া সাধু পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে, আইনের উপর নির্ভর করে সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।’ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘জাতীয় মৎস সপ্তাহ’ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যদানকালে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম ওই বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি ‘জাতীয় মৎস সপ্তাহ’ পালনে যথার্থতার মূল্যায়ন করতে যেয়ে আরো বলেন, ‘খাল-বিল-নদী-নালার বাংলাদেশ’, ‘মাছে-ভাতে বাঙ্গালী’- মাছের দেশের এ বাঙ্গালী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী চিরায়ত উক্তিটি যেন আজ মিথ্যে হয়ে যাচ্ছে। ‘খাল-বিল-নদী-নালা’ আজ ভূমি খেকু আর কলকারখানার বর্জের প্রভাবে ধ্বংস প্রায়। কলকারখানার বর্জের পাশাপাশি আবাদী জমিতে সার কীটনাশকসহ নানা বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে সাধু পানির ৬২/৬৫ প্রজাতির দেশী মাছ হারিয়ে ফেলেছি। আজ আমাদের জীবন জীবীকা নির্দিষ্ট কিছু চাষের মাছের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাতেও বিষাক্ত ফরমালিনের প্রভাব। যার কারনে আমরা আজ জীবনী শক্তি, মেধা, মনন সব হারিয়ে অন্য মানুষে পরিনত হচ্ছি। এ অবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিনির্মানে নতুন করে ভাবতে হবে। হারানো দেশীয় প্রজাতীর মাছ ফিরিয়ে আনতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে তা সম্ভব এবং তার জন্য সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন মনুষ্যত্বের বিকাশ। আর সেই মনুষত্বের বিকাশ ঘটাতে এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারন এ অবস্থার উত্তরণে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।
জাতীয় মৎস সপ্তাহ পালন উপলক্ষে ‘সাগর নদী সকল জলে মাছ চাষে সোনা ফলে’ এ-শ্লোগানকে সামনে রেখে সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন চৌধূরীর সভাপতিত্বে এবং সহকারী সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মোঃ নাছির আহমেদ ভূঞার সঞ্চালনায় ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম সহিদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া আক্তার। অন্যান্যেও মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ কবির আহমেদ, উপজেলা বি.আর.ডিবি কর্মকর্তা মোঃ আবুল হাসেম মোল্লা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা ইয়াছমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইউনুছ মিয়া, পৌর সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সরকার, মৎস চাষি মোঃ আবুল কালাম, মোঃ মোমেন খান, মোঃ মাহমুদুল হাসান প্রমূখ।
আলোচনা শেষে মৎস চাষে সাফল্যের মাপ কাঠিতে শীর্ষে থাকা উপজেলার সুবিল গ্রামের গলদা চিংড়ি রেণু উৎপাদনকারী আব্দুল মোমেন খান, রেণু পোনা উৎপাদনে জীবনপুর-রসুলপুর হেচারী মালিক রঘুনাথ বর্মণ এবং গোপালনগর গ্রামীণ কৃষি ও মৎস জীবী ‘বিল নার্সারী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ আবুল কালামকে সম্মাননা ক্রেষ্ট উপহার দেয়া দেয়া হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...