নাঙ্গলকোটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : ডাকাতিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

 

মো. আলাউদ্দিন :–
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার। এ অবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে পানি ঢুকে পড়েছে। তবে এসব এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণসামগ্রী না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। এ অবস্থায় পানিবন্দি পরিবারগুলোকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
পানিবন্দি এলাকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে সাতবাড়িয়া, জোড্ডা ও আদ্রা ইউনিয়ন অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ওই ইউনিয়নগুলোর সাতবাড়িয়া, অষ্টগ্রাম, শাকতলী, আদ্রা, তুগুরিয়া, পুজকরা, বাহুড়া, বাইয়ারা, ভবানীপুর, আলিয়ারা, তপোবন, সাধনপুর, খাড়োরা, পাইয়ারা গ্রামসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাতে ওই গ্রামগুলোর অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ওই ইউনিয়নের অন্তত তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। এদিকে গত সোমবার সাতবাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলমের মেয়ে আলম আরা আক্তার পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে উপজেলার বক্সগঞ্জ-সাতবাড়িয়া-গুণবতী সড়কটিও ডুবে গেছে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবারের টানা বর্ষণে ডাকাতিয়া নদীর পানি আরো বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী উপজেলার বক্সগঞ্জ, ঢালুয়া, মৌকারা, রায়কোট, বাঙ্গড্ডাসহ অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার একর জমির ধান ও শাকসবজি। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প। অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
উপজেলার তপোবন গ্রামের বৃদ্ধ আবদুস আউয়াল বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। সাত-আট দিন ধরে আমরা কষ্টে থাকলেও সরকারের কোনো লোক এসে আমাদের খবর পর্যন্ত নেয়নি।’
উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন দুলাল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সোমবার পানিতে ডুবে মারা যাওয়া স্কুলছাত্রীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পানিবন্দি অন্যান্য পরিবারগুলোকে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...