বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম খাঁন

 

মো. আলাউদ্দিন :—
চিকিৎসার অভাবে অনেক আগেই বরণ করেছেন যন্ত্রনাদায়ক পঙ্গুত্ব। হারিয়েছেন শ্রবণ শক্তিও। আর এখন বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুস সালাম খাঁন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যক্তি জীবনে তিনি ৭ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানের জনক। নিজের সকল সম্পত্তি বিক্রি করে কোনোমতে ৫ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বাকি ২ মেয়ের একজন পঞ্চম শ্রেণীতে অন্যজন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। আর সবার ছোট ছেলেটি পড়ে প্রথম শ্রেনীতে। খেয়ে না খেয়ে ২ স্ত্রী ও ৩ সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের কুরকুটা গ্রামের এই অসহায় মুক্তিযোদ্ধা। অনেক দিন আগে থেকেই তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সরকার থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ও এলাকাবাসীর সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার জোটাতেও অনেক কষ্ট হয়। যুদ্ধকালীন সময়ে ২নং সেক্টরে মেজর হায়দারের নের্তৃত্বে যুদ্ধ করেন তিনি। উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কুরকুটা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম খাঁনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- ছোট্ট একটি জীর্ণশীর্ণ টিনের ঘরে কোনোমতে জীবন-যাপন করছেন এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
শ্রবণ শক্তি না থাকায় এ মুক্তিযোদ্ধা কারো কথা শুনতে পান না। তবে কাগজের মধ্যে লিখে দিলে তিনি তার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন। প্রশ্ন লিখে দিলে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম খাঁন জানান- ভারতের অম্বিনগর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। নিজের দেশকে ভালোবেসে সে সময় তিনি অনেক পাক সেনাকে হত্যা করেছেন। জীবনের শেষ ইচ্ছা কি? এমন প্রশ্নে তিনি জানান- তার নিজের জন্য কোন ইচ্ছা নেই। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েগুলোকে পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করতে পারলেই তিনি খুশি।
তার দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা বেগম জানান- পরিবারের ভরণ-পোষণ ও মেয়েদের বিয়ে দিতে ভিটে বাড়ির জায়গা ছাড়া সব জমি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এক সময় তার শরীরে অনেক জোর ছিল, তখন তিনি মাঠে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন তিনি কারও সাহায্য ছাড়া ঘর থেকেও বের হতে পারেন না। এমতাবস্থায় আমি আমার স্বামীর চিকিৎসা ও ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের সাহায্য কামনা করছি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আমেরিকা প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তৌহিদুর রহমান মজুমদার জানান- মহান মুক্তিযুদ্ধে আবদুস সালাম খাঁনের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। বর্তমানে নাঙ্গলকোট উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। আমরা সবসময়ই তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...