দেবিদ্বারে কিশোরীকে গণধর্ষন মামলার পলাতক আসামী এরশাদ গ্রেফতার

 

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার:

দেবিদ্বারের আলোচিত কিশোরী গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামী মোঃ এরশাদ(২৮)কে গ্রেফফতার পূর্বক কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। রোববার গভীর রাতে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ জাকির হোসেন সিকদার একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর (জীবনপুর) গ্রামের একটি বনাজি বৃক্ষবাগান থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আটক ধর্ষক মোঃ এরশাদ(২৮) উপজেলার আব্দুল্লাহপুর (জীবনপুর) গ্রামের মৃতঃ গিয়াস উদ্দিন গেসুর পুত্র। সোমবার তাকে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করা হয়। এর আগে গত ১৬ মে স্থানীয় গ্রামবাসী ধর্ষক হাসান (২৩) ও আনোয়ার (২৩) নামে দুই ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। অভিযুক্তরা আদালতে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য গত ১৫ মে রাত সাড়ে ৯টায় গ্রেফতার হওয়া বড়আলমপুর (বিনাইপাড়) গ্রামের শাহজাহান মিয়ার পুত্র মোঃ হাসান(২৩), একই গ্রামের মাছ ব্যাপারী রেনুমিয়ার পুত্র আনোয়ার(২৩), আব্দুল্লাহপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন গেসু মিয়ার পুত্র এরশাদ(২৮) ও একই গ্রামের মালু মিয়ার পুত্র আরিফ(২০) সংঘবদ্ধ হয়ে বড়আলমপুর ভেরী বাঁধে আশ্রীত একটি ঘরে ঢুকে অস্ত্রেরমূখে ওই কিশোরীকে তোলে গোমতী নদীর ভেরী বাঁধের একটি ঝোপে এনে পালাক্রমে ধর্ষন করে এবং ধর্ষণের ছবি মোবাইলে ভিডিও করে রাত একটায় ওই ধর্ষিতাকে তার বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে শনিবার সকাল ১০টায় গ্রামের সর্দার-মাতব্বরগন সালিস বসেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সালিসে ঘটনার কোন সুরাহা দিতে না পারায়, গণপিটুনি দিয়ে গ্রামবাসী হাসান ও আনোয়ারকে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই ঘটনায় ধর্ষিতার মা’ বাদী হয়ে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে ১৬মে রাতে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন এবং ১৭মে আদালতে ধর্ষিতা ভিক্টিমকে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড ও ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
ওই সময় আটককৃতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গত ১৭ মে সকালে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) জাকির সিকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক হাসানের দোচালা টিনের ঘরের কাঁচা মেঝেতে গর্তকরে লুকিয়ে রাখা একটি পিস্তল উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানকালে স্থানীয় পৌর সহায়ক সদস্য, গন্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিপুল লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানায় উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি একটি খেলনা পিস্তল। পুলিশ ও এলাকাবাসী আরো জানান, একটি সংঘবদ্ধ দল বিভিন্ন সময়ে এ পিস্তল দেখিয়ে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংগঠন করে আসছিল।
দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) জাকির সিকদারে জানান, আসামী হাসান’র স্বীকারোক্তিতে পিস্তল উদ্ধার করতে যাই। তার নিজ বাড়ির কাঁচা ভিটির মেঝেতে গর্ত খুড়ে পিস্তলটি মাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল। উদ্ধার হওয়ার পর দেখা গেল পিস্তলটি খেলনা পিস্তল ছিল।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বড়আলমপুর (বিনাইপাড়) ভেরী বাঁধ এলাকায় হাসান, আনোয়ার, আরিফ, এরশাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল দির্ঘদিন যাবত ছিনতাই, চুরি, রোড ডাকাতি, মাদক চোরাচালান ও মাদক সেবন এবং ধর্ষনের মতো অপরাধ সংগঠন করে আসছিল। ধর্ষণ মামলার প্রধান ৩ আসামীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...