ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া চালকদের অনিয়ন্ত্রিত পারাপার॥ থেমে থেমে যানজট

মো.জাকির হোসেন:–
কুমিল্লায় দেশের পাইপলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ফোর লেনের কাজে চলছে ব্যাপক ধীরগতি । চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ফোরলেনের পুরনো অংশে ছোট-খাটো খানা-খন্দক ভরাটের কাজ শেষ হলেও নতুন অংশে তেমন কোন কাজের অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। এদিকে ফোর লেনের নির্মানাধীন কমপক্ষে ২০/২৫টি স্থান দিয়ে চালকরা বেপরোয়াভাবে নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ে পারাপারের ফলে বিভিন্নস্থানে থেমে থেমে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগের কবলে পড়ছে ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ। দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। আহত বা নিহত হচ্ছে অনেকেই।
সরেজমিন মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ঘুরে দেখা যায়, দেশের ব্যস্ততম প্রধান জাতীয় মহাসড়কের কুমিল্লা সদর উপজেলার চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের নির্মানাধীন ফোর লেনের কাজ হয়েছে কোথাও টানা কয়েক মাইল দীর্ঘ কোথাও বা স্বল্প দুরত্বের । দেশের প্রধান ব্যাস্ততম জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ফোর লেনের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের শেষ দিকে। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। কুমিল্লার দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের মোহাম্মদআলী পর্যন্ত প্রায় ৯৯ কিলোটিার দীর্ঘ অংশে চলতি মাস পর্যন্ত ৩ টি প্রকল্পের অধীনে ৭০ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ প্রকল্প শুরুর পর ২০১২ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা ছিল। বর্তমানে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ধীরগতির কারনে কাজ শেষ হওয়ার বিষয় নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লা অংশের আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা পর্যন্ত ফোর লেন প্রকল্পের এই ৪৫ কিলোমিটার অংশের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান,বর্তমানে এই অংশের ব্রীজ ও কালভার্টের পুরো কাজ শেষ হয়েছে। পাকা হয়েছে ৩৪ কিলোমিটার। তবে বর্ষা মৌসুমের জন্য এবং পাথর সংকটের কারনে বর্তমানে বাকী কাজে ধীরগতি। এদিকে সড়কের পাশে মালামাল পড়ে থাকা এবং রোড ভিাইডার না থাকায় চালকরা যানবাহন চালাচ্ছে বেপরোয়া ও নিয়মবহির্ভূত। একই অবস্থা মহাসড়কের আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে চৌদ্দগ্রামের বাতিসা পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার এলাকাতেও। সেখানে সম্পন্ন হয়েছে ২৮ কিলোমিটার সড়ক। পাশাপাশি ব্রীজ,কালভার্টের কাজ শেষ। এই প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম সারওয়ার বলেন,বর্ষা মৌসুমে সড়ক পাকাকরনে সমস্যা হচ্ছে। তবে রোড ডিভাইডারের কাজ চলছে প্রতিদিন। এছাড়াও গত প্রায় আড়াইমাস ধরে ভারত থেকে পাথর না আসায় সড়ক নির্মান কাজে বিলম্বের কথা জানান। এদিকে মহাসড়কের বাকী কাজগুলো সম্পন্নে যখন বর্ষা ও পাথর সংকটের কথা বলা হচ্ছে তখন একইভাবে রোড ডিভাইডারের কাজেও স্লথ গতি। এরফলে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ টি স্থানে যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া ও নিয়মবহির্ভূতভাবে গাড়ি চালনার ফলে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি সহ ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। এতে আহত নিহত হচ্ছে যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীরা। মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের অংশে সংযোগ সড়ক অল্প কয়েকটি থাকলেও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত রয়েছে কমপক্ষে ২৫ টিরও বেশী সংযোগ সড়ক। এই সকলস্থানে রোড ডিভাইডার না থাকায় যানবাহনের চালকরা বাম থেকে ডানে ডান থেকে বামের সড়কে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে আগে যাওয়ার প্রতিযোগীতা করে। উভয়দিকে গাড়ি চালানোর কারনে অনেক গাড়ি চালক দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন থামিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এসকল স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সুয়াগাজী, পদুয়ার বাজার, বেলতলী, কোটবাড়ি রাস্তার মাথা, ঝাগুড়ঝুলি, আলেখারচর বিশ্বরোড, আমতলী, নিশ্চিন্তপুর, নাজিরা বাজার, কালাকচুয়া, সৈয়দপুর, কাবিলা, ইষ্টার্ন মেডিকেল কলেজ’র সামনে, নিমসার, কোরপাই, কাকিয়ারচর, চান্দিনা পাট গবেষনা কেন্দ্রের সামনে, বাগুড়, চান্দিনা পালকি সিনেমা হলের সামনে, আতাপুর, হাড়িখোলা, নুড়িতলা, মাধাইয়া, সোনাপুর, মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজের সামনে, দরিয়াপুর, নাওতলা, কুটুম্বপুর (পূর্ব), কুটুম্বপুর (পশ্চিম), ইলিয়টগঞ্জ বাজারের পূর্ব ও পশ্চিমে, রায়পুর, গৌরীপুর, পুটিয়া, জিংলাতলী, আমিরাবাদ, হরিপুর, স্বল্পপেন্নাই, পেন্নাই, শহীদনগর । সরেজমিন উল্লেখিত এলাকা ঘুরে দেখা যায় এসব স্থানে রোড ডিভাইডার না থাকায় বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক পাশ থেকে গাড়ি নিয়ে বিপরিত পাশের সড়কে চলে আসে । এতে বিপরিত দিক থেকে আসা যানবাহন চালকরা দূঘটনার আশঙ্কায় যানবাহন থামিয়ে ফেলে । ফলে থেমে থেমে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। প্রতিদিনই এসব এলাকায় ২/৩ কিলোমিটার করে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দিনাজপুর থেকে চট্রগ্রামগামী ট্রাক চালক আনোয়ার হোসেন বলেন,মহাসড়কের ফোর লেনের মাঝে ডিভাইডার না নাথাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। দুটি সড়কের মাঝে কোন খালি জায়গা না থাকলে চালকরা দিক পরিবর্তন করে এক পাশ থেকে অন্য পাশে আসতে পারতো না। এই অবস্থায় মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের সবচেয়ে বিপদজনক স্থানগুলো হচ্ছে দাউদকান্দির পুটিয়া, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, আলেখারচর বিশ্বরোড। প্রতিদিনই এসকল স্থানে বেপোরোয়া যানবাহন চালানোর কারনে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা বাগুড় এলাকায় সড়কের পাশজুড়ে সিএনজি স্ট্যান্ড,নিমসার এলাকায় দেশের অন্যতম বৃহৎ কাচাঁবাজারে সড়কের উপর যানবাহন রেখে মালামাল উঠানামা করানোর ফলে এসকল স্থানে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে মহাসড়কের উপর স্ট্যান্ড ও বাজার ঈদ মৌসুমে যানজটের সৃষ্টি করার আশঙ্কার কথা চিন্তা করে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিমসার এলাকায় বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদল জরুরী সভা করে। মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজের বিষয় এবং রোড ডিভাইডার নির্মানের বিষয় জানতে চাইলে,কুমিল্লা অংশের দায়িত্বরত প্রকৌশলী দিদারুল আলম জানান,চাইলেতো আর কাজ শেষ করা যাবেনা। আমরা ঠিকাদারদের যত দ্রুত সম্ভব কাজ সমাপ্তির বিষয়ে চাপ দিয়েছি। রোড ডিভাইডারের কাজ অলরেডি চলছে। যানবাহন চালকরা আগে যাওয়ার চেষ্টায় রোড ডিভাইডার না থাকায় যত্রতত্র সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে এসে পারাপারের চেষ্টার কারনে মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর কে কেন্দ্র করে সেই যানজট যেন ভয়াবহ আকার ধারন না করে সেজন্য যে সকল স্থানে রোড ডিভাইডার নেই সে সকল স্থানে উচু করে মাটি ফেলে আপাততঃ যানবাহন পারাপার ঠেকানোর চেষ্টায় কাজ করা হচ্ছেও বলে তিনি সকালের খবরের এই প্রতিনিধির কাছে মন্তব্য করেন। এদিকে চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, আগে যাওয়ার প্রতিযোগীতায় এক পাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়ার বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর ঈদে ঘরমুখা মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে গতকাল মঙ্গলবার থেকে মহাসড়কের যে সকল স্থান দিয়ে রোড ডিভাইডার না থাকার কারনে চালকরা যানবাহন নিয়ে আগে যাওয়ার প্রতিয়োগীতায় লিপ্ত হয়ে সড়কের পাশ পরিবর্তন করে যানজট সহ দুর্ঘটনা সৃষ্টি করেন সেসকল স্থানে বাশঁ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। এক্ষেত্রে মহাসড়কের ময়নামতি নাজিরাবাজার ও বুড়িচংয়ের সৈয়দপুর এলাকায় পুলিশ বাশঁ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও বাকী অংশ এখনো অরক্ষিত। ফলে গতকাল মহাসড়কের বিভিন্নস্থানেও থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে আরো জানান,যানজট নিরসনে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ খুব শিঘ্রই মহাসড়কে কাজ শুরু করবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...