নাঙ্গলকোটে রমজানের ছুটিতে চলছে জমজমাট কোচিং বাণিজ্য

 

মো. আলাউদ্দিন :–
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে জমজমাট কোচিং বাণিজ্য। প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য চলছেই। বর্তমানে পবিত্র রমজান ও ঈদের ছুটিতে শিক্ষকদের কোচিং বাণ্যিজ্য আরও জমজমাট হয়ে উঠেছে। সংক্ষিপ্ত এ ছুটিতে ১৫ থেকে ২০ দিন ক্লাস করে প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ভাবে আদায় করা হচ্ছে। কোচিংয়ের টাকা দিতে দিয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়- উপজেলার প্রায় সবকটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কোচিং বাণিজ্য চলছে। কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করানো, কম নাম্বার দেওয়া এবং কোচিং করলেও টাকা দিতে হবে এবং না করলেও টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেয়া হবে না। এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে কোচিং করতে বাধ্য করা করছেন বলে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। শিক্ষার্থীদের থেকে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে আদায় করা টাকা শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন। উপজেলার শাকতলী গ্রামের রুহুল আমিন নামে এক অভিভাবক জানান- আমার ছেলে কোচিং করতে না চাইলেও তারা তাকে কোচিং করতে বাধ্য করেছে। একদিকে ঈদ বাজার অন্যদিকে ঈদের আগে কোচিং এর টাকা জোগাড় করতে অভিভাবকরা একরকম দিশেহারা হয়ে পড়েন। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের মনিটরিং না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন।
বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় (স্মারক নং-শিম/শা:-১১/৩-৯/২০১১/৪০১, তাং ২০/০৬/২০১২ইং) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালে একটি নীতিমালা করে। এ নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশের মতো কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেও এ সংক্রান্ত পত্র পাঠানো হয়। অনুচ্ছেদ তিন অনুসারে নিজ প্রতিষ্ঠানের কোন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন কোচিং করাতে পারবে না। প্রাইভেট পড়ানো বা কোচিংয়ের জন্য কোন ছাত্র-ছাত্রীকে উদ্ধুদ্ধ করা যাবে না এবং কোন বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা যাবে না। কোন শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর জন্য কোন বাসা ভাড়া নিতে পারবে না। কিন্তু সরকারের এই নীতিমালা কাগজে কলমেই, বাস্তবে তার উল্টো।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ ক’টি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়- রমজান ও ঈদ উপলক্ষ্যে সরকার কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ ঘোষণা করলেও নীতিমালা অমান্য করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করছেন। প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের জন্য শিক্ষকরা ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকদের সাথে আঁতাত করে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম যথারীতি না করে তড়িঘড়ি করে স্কুল ছুটি দিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কাজে মেতে উঠে।
কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ব্যর্থ প্রমাণে শিক্ষকদের একটি গ্র“প তৎপর হয়ে উঠেছে। এই ইস্যুতে নানা অপকৌশলে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন বরে অনেকে অভিযোগ করেন। উপজেলার শাকতলী, পুজকরা, পানকরা, দায়েমছাতি, ময়ূরা ও মনতলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ সবকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে রজমানের ছুটিতে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শাকতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল কাইয়ুম ভূঁইয়া বলেন- শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তাদের কোচিং করানো হচ্ছে। তবে কোন শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বাধ্য করা হচ্ছেনা। এদিকে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালার কথা বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোনাজের রশিদ জানান- এ বিষয়ে আমারা কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...