বাখরাবাদের অবৈধ সংযোগ : সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় প্রকৃত গ্রাহকদের ভোগান্তি

মো. জাকির হোসেনঃ–
কুমিল্লার প্রায় সর্বত্র বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড’র অবৈধ আবাসিক সংযোগের কারনে সরবরাহ লাইনে গ্যাস কমে গেছে। এতে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে জ্বালানী সমস্যায় দিশেহারা প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার বৈধ আবাসিক গ্রাহক। সরবরাহ লাইনে তীব্র সংকটে পড়ে রাত জেগে রান্নায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে গৃহিনীরা। আবার অনেক জায়গায় জ্বালানী সমস্যায় পড়ে না খেয়ে রোজা রাখতে বাধ্য হয়েছে অনেক ধর্মপ্রান মানুষ। অনিয়মের দোলাচালে যখন সাধারন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে,সেখানে এই প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসাদূ কর্মকর্তা-কর্মচারী,সিবিএ নেতা সহ ঠিকাদারদের রমরমা অবস্থা। আর এভাবে প্রতিদিনই অবৈধ সংযোগ যেমন বাড়ছে,তেমনি বৈধ গ্রাহকদের জ্বালানী সমস্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। গ্যাস সংকটের কবলে রয়েছে এইমুহুর্তে কুমিল্লা মহানগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড’এ এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেনা প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা।
সরেজমিন জেলার বিভিন্নস্থান ঘুরে পাওয়া তথ্যে জানা যায়,সরকার দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর ২০১৩ সালে আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ দেয়া শুরু করলে জেলায় বাখরাবাদের অধীনে হাজার হাজার গ্রাহক নতুন গ্যাস সংযোগ পেতে আবেদন করেন। সুত্র জানায়,এসময় এক শ্রেনীর দূর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারী,সিবিএ নেতা গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগের সরবরাহ লাইন, রাইজার সহ অন্যান্য মালামালের স্বল্পতা দেখিয়ে নানাভাবে হয়রানী করে। এতে বহু লোক আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ নিতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে অসাদূ চক্রটি মহানগরী সহ জেলার বিভিন্নস্থানে তাদের ঠিকাদারদের সহায়তায় দালাল নিয়োগ করে অবৈধ সংযোগ বানিজ্যে নেমে পড়ে। বৈধভাবে সংযোগ পেতে ব্যর্থ হয়ে তখন গ্রাহকরা মরিয়া হয়ে উঠে যেকোন মূল্যে সংযোগ পেতে। এসময় প্রতিটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঠিকাদাররা হাতিয়ে নেয় সর্ব নি¤œ ৬০/৬৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮৫/৯০ হাজার টাকা। এতে করে অসাদূ চক্রটি পুরো জেলায় অবৈধ সংযোগের নামে হাতিয়ে নেয় কমপক্ষে ১’শ কোটি টাকারও বেশী । চক্রটি জেলায় অবৈধভাবে এসময় কমপক্ষে ৫ হাজারেরও অধিক আবাসিক সংযোগ দেয়। এতে করে মূল সরবরাহ লাইনে আগের সরবরাহ থাকায় আবাসিক সংযোগগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। ফলে মহানগরী সহ জেলার বিভিন্নস্থানে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। কোথাও দিনের বেলা গ্যাস থাকলেও সন্ধ্যার পর সারা রাত গ্যাস শূণ্য হয়ে পড়ে। আবার কোথাও দিনের কিছু অংশ গ্যাস থাকলেও দিন রাতের অধিকাংশ সময় গ্যাস সরবরাহ থাকে না। ফলে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মহানগরীর শাকতলা এলাকার গৃহবধূ কোহিনুর জানান,দুপুরের পর থেকেই গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। ফলে ভোর থেকে দিনের রান্নার কাজ শুরু করতে হয়। একই অবস্থা রাতের বেলায়ও। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে থাকে। কোথাও কোথাও দেখা যায়,হঠাৎ করে গ্যাস উধাঁও হয়ে যায়। ফলে এই রমজান মাসেও জেলার বিভিন্নস্থানে না খেয়ে শত শত লোক কে রোজা রাখতে হয়েছে। জেলার বুড়িচং,চান্দিনা,দেবিদ্বার,মুরাদনগর,হোমনা,তিতাস,দাউদকান্দি,বরুড়া,লাকসাম,সদর দক্ষিণ,চৌদ্দগ্রাম সহ কুমল্লা সদর উপজেলার প্রায় সর্বত্রজুড়ে রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। সারা জেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের ফলে এমুহুর্তে মহানগরীর কাপ্তানবাজার,ভাটা পুকুরপাড়,কালিয়াজুড়ি,ছোটরা,ঝাউতলা,কুচাইতলী,মেডিকেল কলেজ এলাকা,সদর উপজেলার আমতলী,নিশ্চিন্তপুর,বুড়িচংয়ের ফরিজপুর,নাজিরাবাজার,ঝুমুর,সমেষপুর,সিন্ধুরিয়াপাড়া,দেবপুর,রামপুর,মিরপুর,হরিণধরা,সৈয়দপুর ছাড়াও মুরাদনগর,হোমনা,তিতাসের বিভিন্নস্থানে প্রতিদিনই গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এতে গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিদিন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...