আকলিমা হত্যা মামলা : আসামিরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :—
যৌতুকের বলি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার উচালিয়াপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা বেগম (৩০) হত্যা মামলার রহস্যের জট এখানো খুলেনি। মামলা দায়েরের প্রায় আড়াই মাস পা হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত আকলিমার বড় ভাই মো. আক্তার মিয়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে উচালিয়াপাড়ার তৈয়ব উদ্দিন মুন্সীর ছেলে হেলাল উদ্দিন মুন্সীর (৪০) সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের মধ্য মেড্ডা এলাকার মৃত মাজু মিয়ার মেয়ে আকলিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেশ কয়েকবার আকলিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দেওয়া হয়। সর্বশেষ আকলিমা হত্যার কিছুদিন আগে আকলিমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন আবারো ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।

কিন্তু ওই টাকা দেয়ার সামর্থ্য তার পরিবারের নেই জানালে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার উপর মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন শুরু করে। পরে আকলিমা নির্যাতনের বিষয়টি তার মা ও বড় ভাইকে জানান। তারা এ বিষয়ে আকলিমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাছেও যৌতুক বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে আকলিমার স্বামী ও দেবররা লোহার রড এবং কাঠের রোল দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে এবং শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল নিহত আকলিমার বড় ভাই মো. আক্তার মিয়া বাদী হয়ে আকলিমার স্বামী হেলাল উদ্দিন মুন্সিকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাকি আসামিরা হলেন, আকলিমার দেবর জুয়েল উদ্দিন মুন্সি, জয়নাল উদ্দিন মুন্সি, জিয়াউদ্দিন মুন্সি, আকলিমার শাশুড়ী মোছা. আউলিয়া বেগম, ননদ পান্না আক্তার, চম্পা আক্তার ও আকলিমার শ্বশুর তৈয়ব উদ্দিন মুন্সি। মামলা দায়েরের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে বিভিন্ন সময় আসামি ধরার কয়েকটি অভিযান পরিচালিত হলেও তা অদৃশ্য কারণে ব্যাহত হয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহত আকলিমার বড় ভাই মো. আক্তার মিয়া জানান, আমার বোনের হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশায় বারবার পুলিশের কাছে ধর্ণা দিচ্ছি। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো আমার বোনের পরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপষ্টো চলছে। আমার বুড়ো মা তার মেয়ের কথা মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তার এখন একটাই ইচ্ছে অন্তত মৃত্যুর আগে যেন নিজের মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...