মনোহরগঞ্জের মোস্তফা কামাল নার্সারী করে স্বাবলম্বী

মোঃ আকবর হোসেন:—
“গাছ লাগান পরিবেশ বাচাঁন” এ শ্লোগানে প্রতি বছর সারা বাংলাদেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করা হয়। গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহা সড়কের পাশে অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে মাতৃভূমি নার্সারী নামে দুটি নার্সারী প্রতিষ্ঠা করেন মোস্তফা কামাল। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, দেশী-বিদেশী সব ধরনের ফুলের চারা পাইকারী ও খুচরা মুল্যে বিক্রয় করা হয় এবং তাইওয়ানের হাইব্রিড পেপের চারা ও মালেশিয়ান বারমাসি লুবনা জাতের আমের কলমের চারা পাওয়া যায়। আর এ গাছের চারা বিক্রি করে স্বাবলম্বী কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের বিনয়ঘর গ্রামের মোস্তফা কামাল (৪৫)। নার্সারী করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি করে প্রতি বছর তিনি টাকা আয় করছেন। এলাকাবাসী জানান, এতো সুন্দর সাজানো গোছানো নার্সারী পুরো উপজেলার আর কোথাও দেখিনি। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিল মোস্তফা কামাল। এ অল্প লেখাপড়া করে মজার মজার অনেকগুলো কবিতাও লিখেছেন তিনি। পূর্বে পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার একটি বাজারে হোটেলে চাকরি করত মোস্তফা কামাল। হোটেলের চাকরির আয় দিয়ে সংসার চলত না তার। হঠাৎ করে একদিন তিনি দেখলেন এক ভদ্রলোক নার্সারী করছেন। ঐ লোকের নার্সারী করা দেখে তার ভিতরে নার্সারী করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তিনি ঐ ভদ্রলোকের কাছে গিয়ে নার্সারী করার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। পরে ঐ ভদ্রলোক তাকে নার্সারী করার জন্য উৎসাহ প্রদান করলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর আগে মাত্র এক হাজার টাকা পুজি নিয়ে মোস্তফা মিয়া তার খালার দেড় শতাংশ জায়গার মধ্যে নার্সারী ব্যবসা শুরু করলেন। আস্তে আস্তে বিস্তার করে বর্তমানে তার দুটি নার্সারী রয়েছে। নাথেরপেটুয়া গ্রামের উত্তর মাথায় ত্রিশ শতাংশ জায়গার মধ্যে এবং নাথেরপেটুয়া গ্রামের দক্ষিণ মাথায় ত্রিশ শতাংশ জায়গায় মধ্যে তিনি নার্সারী করেন। বর্তমানে উত্তর মাথার নার্সারীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার গাছের চারা আছে এবং দক্ষিণ মাথার নার্সারীতে চল্লিশ হাজার গাছের চারা আছে। তার নার্সারীতে প্রায় ১৬০ প্রজাতির গাছ আছে। সেগুলোর মধ্যে আলু বোকরা, ড্রাগন ফল, মিষ্টি তেতুল, থাই জামরুল, থাই পেয়ারা, কাজি পেয়ারা, দেশী জামরুল, দেশী জামবুরা, কাউফল, মালি আম, ট্যাংক ফল, দেশী লেবু, আঙ্গুর ফল, কামরাঙ্গা, কাঠাঁল সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ চারা পাওয়া যায়। বনজ চারার মধ্যে একাশি, বেলজিয়াম, গামারি, চিকরাশি, চাপালিশ, সেগুন, পোপন ঝাউ, লাম্ব সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বনজ চারা পাওয়া যায়। বর্তমানে মোস্তফা কামালের দুটি নার্সারীতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গাছের চারা আছে। এক ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে মোস্তফা কামাল বর্তমানে স্বাবলম্বী জীবন যাপন করছেন। মোস্তফা কামালের আহ্বান তার এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাওয়া যায়। তাই এ বর্ষা মৌসুমে গাছ লাগিয়ে পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য সকলে তার নার্সারী থেকে একটি করে যেন গাছ কিনে নিয়ে যায়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...