কুমিল্লায় চলাচলের অনুপযোগী নগরীর সকল রাস্তা-ঘাট সংস্কারের নামে লুটপাট : নগরবাসীর দূর্ভোগ চরমে

মো.জাকির হোসেন :–
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন শুধু নামে। আর এর উন্নয়ন কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। নগরপিতা বছরজুড়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরলেও হতাশ নগরবাসী। ফলে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে নগরীর রাস্তা-ঘাট,ড্রেন-কালভার্ট। ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে সড়কজুড়ে দুপুর পেরিয়ে বিকেল পর্যন্ত। এর পাশাপাশি সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত নগরীতে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ হলেও সেটাও বন্ধ নেই। অর্থাৎ পুরো অব্যবস্থাপনায় নগরীর বেসামাল অবস্থা। আর নগরবাসীর উন্নয়নের দোহাই দিয়ে চলছে লুটপাট । পকেট ভারী হচ্ছে এক শ্রেনীর দূর্নিতীপরায়ন কর্মকর্তা কর্মচারীর। এই মুহুর্তে নগরীর একটি সড়ক নেই যা ত্রটি মুক্ত। আবার বহু সড়ক রয়েছে যেগুলোর উন্নয়নের দোহাই সহ নগরবাসীকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের দেখা নেই। অথচ প্রতি বছর এই নগরীর উন্নয়নের কথা বলে নগরপিতা বাজেট পেশ করেন। পরবর্তীতে বছর জুড়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশে দাড়িয়ে নগরপিতা ও সংশ্লিস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা ফটোসেশনে ব্যস্ত থাকেন । চলে ড্রেন পরিস্কারের নামে লুটপাটের মহৌৎসব। নগরবাসী সহ প্রতিনিয়ত নানা কাজে নগরীতে আসা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এসময় অনুপযোগী হয়ে পড়া চলাচলের অযোগ্য সড়ক দিয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়ে চলাচল করে। এছাড়া নগরীর আশপাশের অর্থাৎ নগরীতে প্রবেশপথের সবগুলো সড়কেরও একই অবস্থা। ফলে দুর্ভোগ মানুষের পিছু ছাড়ছেনা। তবে বছর পেরিয়ে নতুন বছর আসে,আসে নতুন বাজেট। সংস্কার বা মেরামতের নামে চলে লুটপাট। নগরবাসীর সুযোগ-সুবিধার কোন পরিবর্তন হয়না,বছরজুড়ে তাদের ভোগান্তি চরমে,কিন্তু সংশ্লিস্টদের পকেট ভারী হচ্ছে কাজ না করে বা নি¤œমানের কাজ করে । নগরীতে বছরজুড়ে ড্রেন পরিস্কারের মহড়া চললেও রাস্তা বা সড়ক সংস্কারে খেয়াল নেই কর্তৃপক্ষের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা ২০১৪ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন,অল্পকিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হবে। এখানে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন রোডের কথা বলা হচ্ছিল। স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়,মহানগরীর আওতাধীন কুমিল্লা রেলওয়ে এপ্রোচ সড়কটি ২০০৬ সালের পর আর কোন সংস্কার হয়নি। নগরীর অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন রোড সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল ছাড়াও একই রোডে বিআরটিসি বাস টার্মিনাল দিয়েও শত শত যাত্রী চলাচল করে। এছাড়াও স্থানীয় জনগন রয়েছে। এই সড়কটির উন্নয়নের দিকে খেয়াল নেই সিটি কর্পোরেশনের। একই অবস্থা নগরীর শাসনগাছা থেকে পুলিশ লাইন হয়ে কান্দিরপাড়। মাঝে ঝাউতলা,বাদুরতলা সড়কেরও ত্রাহী অবস্থা। ভালো নেই নগরীর নজরুল এভিনিউ’র সড়কটি। কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে রানীর বাজার,অশোকতলা হয়ে রেলওয়ে স্টেশন রোডে মিলিত এই সড়কটি অল্প কিছুদিন আগে সংস্কারের কাজ হলেও বর্তমানে ব্যবহারের একেবারেই অনুপযোগী। আদালত মোড় থেকে কাপ্তানবাজার,বিষœুপুর,কালিয়াজুড়ি,ডিসিরোড,ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় সড়ক,রেলওয়ে স্টেশন রোড হয়ে বাগিচাঁগাও সড়ক,গাংচর রোড,সুজানগর রোড,জগন্নাথবাড়ি রথ রোড,হাউজিং রোড,থিরাপুকুরপাড় রোড,দ্বিতীয় মুরাদপুর রোড,দক্ষিণ চর্থা বড়পুকুরপাড় থেকে ইপিজেড পর্যন্ত সড়ক,উত্তর চর্থা হাজী বাড়ি সড়ক,মোগলটুলি শাহসুজা মসজিদ সড়ক,টমসমব্রীজ থেকে ইয়াসিন মার্কেট পর্যন্ত সড়ক,আশ্রাফপুর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে সড়ক ভবন পর্যন্ত সড়ক,ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ রোড ছাড়াও নগরীর অলি-গলি’র প্রায় সকল রাস্তারই বেহাল দশা। এদিকে নগরীর সড়কের প্রধান প্রধান সড়কের পাশ জুড়ে গড়ে উঠা ডাস্টবিনগুলোর অবস্থাও করুণ । নগরীর অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম নজরুল এভিনিউ সড়ক,পুলিশ লাইন,তালপুকুরপাড়,কান্দিরপাড় সংলগ্ন লাকসাম রোড,টমসমব্রীজ এলাকা,রানীর দীঘির পাড় ভিক্টোরিয়া কলেজ সংলগ্ন সহ নগরীর বিভিন্নস্থানের ডাস্টবিনগুলোতে জমা করা ময়লা আবর্জনা সময়মত পরিস্কার না করায় সেগুলো প্রায়ই রাস্তার উপর এসে পড়ে। এছাড়াও দিনের বেলা কর্মব্যস্ত সময়ে সেগুলো পরিস্কারের জন্য সিটিকর্পোরেশনের আবর্জনাবাহী ট্রাকগুলো ব্যস্ত হওয়ায় নগরবাসীদের দুর্ভোগ চরমে উঠে। এদিকে নগরীতে প্রবেশ মুখের প্রায় সবগুলো সড়কেরও একই অবস্থা। নগরীতে প্রবেশ পথের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কটি শাসনগাছা রেলগেট এলাকা। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে ফ্লাইওভার নির্মান কাজ শুরু করলে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শাসনগাছা ডাকবাংলোর দক্ষিণ পাশের সড়ক পথে ধর্মপুর রেলগেট হয়ে অশোকতলা,কান্দিরপাড় যাতায়াত করা হচ্ছে। তবে সড়কটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হওয়ার কারনে প্রতিদিন অসংখ্য লোক চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অভিযোগ রয়েছে এলজিইডির অধীনে থাকা এই শাসনগাছা থেকে ধর্মপুর হয়ে ধর্মপুর রেলগেট পর্যন্ত সড়কটি প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশী মূল্যে কিছুদিন আগে সংস্কার করা হলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কটিতে হাটু সমান পানি জমে থাকায় প্রতিদিন রিক্সা,ইজিবাইক,হোন্ডা,সাইকেল উল্টে অনেকেই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এই মুহুর্তে নগরীর পশ্চিম ও উত্তর দিক দিয়ে নগরীতে প্রবেশের প্রধান এই সড়কটির বেহাল অবস্থার কারনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হয়রানী সহ ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হলেও সংশ্লিস্টদের খেয়াল নেই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...