মনোহরগঞ্জে হাসনাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির উপর হামলার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের তীব্র প্রতিবাদ

মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:—
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও নেয়ামতপুর গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন অপুর উপর হামলা চালানো হয়েছে। হাসনাবাদ বাজারে জৈনক চঞ্চল ডাক্তারের দোকানের ভিতরে বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুর রহমান খোকনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আহত শাহাদাত হোসেন অপু জানান। শাহাদাত হোসেন অপুর উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনার পর শাহাদাত হোসেন অপু বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় হাসনাবাদ গ্রামের আবু হানিফের পুত্র মোঃ আবুল কালাম শিপন (৩২), এছহাক মিয়ার পুত্র মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান খোকন মেম্বার (৪২), মৃত আবদুল মান্নানের পুত্র বাবলু (৩৫), রামদেবপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিবরণে শাহাদাত হোসেন অপু জানায়, এই মর্মে বিবাদীদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, বিবাদীরা আমার পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্বভাব সুলভভাবে অন্যায় অত্যাচারী, পরধনলোভী, মাদক সেবী, দুর্দান্ত সন্ত্রাসী এবং সমাজ তথা আইন অমান্যকারী লোক। বর্ণিত বিবাদীদের সাথে পূর্ব হইতে সামাজিক সংক্রান্ত বিষয় নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। এই নিয়ে সামাজিকভাবে বহুবার দেনদরবার হইলেও বর্ণিত বিবাদীদের একঘেয়ামির কারণে বিরোধ মিমাংসা করা সম্ভব হয় নাই। বর্ণিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে আমি হাসনাবাদ বাজারস্থ চঞ্চল ডাক্তারের দোকানে ঔষধ ক্রয় করার জন্য দোকানে প্রবেশ করিলে বর্ণিত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া হাতে লাঠি, হকিষ্টিক ইত্যাদি নিয়া দোকান ঘরে প্রবেশ করিয়া আমাকে গালমন্দ করিতে থাকিলে আমি গালমন্দ করিতে নিষেধ করিলে আবুল কালাম শিপন ক্ষীপ্ত হইয়া তাহার হাতে থাকা হকিষ্টিক দিয়া আমার সমস্ত শরীরে এলাপাথাড়ী আঘাত করিয়া জখম করে। বাবুল ও ছিদ্দিকুর রহমান খোকন মেম্বার তাহাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়া আমার পিঠে, বুকে, ঘাড়ে, পায়ে ও মুখে আঘাত করিয়া গুরুতর কালো ফুলা দাগযুক্ত জখম করে। মিজানুর রহমান আমার ঠোটে ঘুষি মারিয়া গুরুতর ফাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। আঘাত জনিত কারণে আমি মাটিতে পড়িয়া গেলে আবুল কালাম শিপন হত্যার উদ্দেশ্যে আমার গলা চিপিয়া ধরিয়া রাখা অবস্থায় বাবলু আমার পেন্টের ডান পকেট হইতে নগদ চল্লিশ হাজার টাকা ও পেন্টের বাম পকেটে থাকা দশ হাজার দুইশত ত্রিশ টাকা এবং খোকন মেম্বার জোর পূর্বক নিয়া যায়। আমি কোন রকমে শিপনের হাত গলা হইতে সরাইয়া শোর চিৎকার করিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে আসিতে থাকিলে তারা প্রকাশ্যে সকলের সামনে আমাকে হত্যার হুমকি দমকি দিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার পূর্বক লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়া ভর্তি করায়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কা জনক। মাথায় সিটি স্কেন, বুকে এক্স-রে করানো হয় এবং তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেন অপু আরো জানান, হাসনাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ কামাল হোসেনকেও তারা গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন মনিরকেও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এদিকে অপুর উপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন মনির, কামরুজ্জামান শামীম সহ উপজেলা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ সহ নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে অপুকে দেখতে যান। ঘটনাটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পত্রিকা অফিসকে ও এ প্রতিনিধিকে জানানো হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...