মতলব উত্তরে দেড় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই কোন খেলার জায়গা

শামসুজ্জামান ডলার :–
মতলব উত্তর উপজেলার দেড় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন খেলার মাঠ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের জন্য বর্তমানে সারাদেশব্যাপী সরকারীভাবে চলছে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে। কিন্তু মতলব উত্তর উপজেলায় ১৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দেড় শতাধিক বিদ্যালয়েরই কোন খেলারমাঠ(স্কুলের জায়গা বেদখল থাকায়) এ উপজেলায় এই টুর্নামেন্টটি চলছে দায়সারা বা নিয়ম রক্ষার টুর্নামেন্ট। এখানে সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভেস্তে। যে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে গেলে যদি তা সরকারী রেজিষ্ট্রেশন পেতে হয় তবে প্রথম শর্তই হচ্ছে ঐ বিদ্যালয়ের নামে ৩৩ শতক জমি থাকতেই হবে। আর কোন বিদ্যালয়ের নামে ৩৩ শতক জমি থাকলে তাতে করে একাডেমী ভবন নির্মান করার পরেও খেলার মাঠ থাকে। কিন্তু এ উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়েরই পুরো ৩৩ শতক জমি বিদ্যালয়ের দখলে নেই। তাছাড়া, হাই স্কুল সংলগ্ন প্রাইমারী স্কুলগুলোর ভবন ব্যতীত ৩৩ শতকের বাদবাকী পুরো জমিই বেদখল। তাছাড়া বিদ্যালয়গুলোকে প্রস্তুতি নেয়ার মতো কোন সময় দেয়া হচ্ছে না। তড়িঘড়ি করে শিশু-কিশোর ও কিশোরীদের এই ফুটবল টুর্নামেন্টটি শেষ করা হচ্ছে। যাতে মনে হচ্ছে সরকারের নিয়ম রক্ষার জন্যই যেনো এই খেলার আয়োজন।
উপজেলার চরকালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দখলে ৩৩শতকের মধ্যে ১শতক জমিও তাদের দখলে নেই। বর্তামানে স্কুলের ভবনটি যেখানে রয়েছে সেটি স্থানীয় একজনের ব্যক্তিগত জমি। এছাড়া উপজেলার গাজিরগাছখলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোরখালি সঃ প্রঃ বিদ্যালয়, বড় মরাদোন সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, উত্তর নাউরী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, পাঁচানী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, সাড়ে পাঁচানী সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ফরাজীকান্দি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, কালিগাছতলা কাজী সুলতান সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, মুদাফর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, মিলারচর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ৬৫ এখলাছপুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়সহ দেড় শতাধিক বিদ্যালয়েরই নেই কোন খেলার মাঠ।
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে আরো দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা স্কুল চলাকালীন সময়ে থাকে খাঁচাবন্দি। স্কুলের ভবন ব্যাতীত অবশিষ্ট জমি থাকলেও তা রয়েছে অন্যের দখলে। কোন কোন বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় সরকারি খাসজমি থাকলেও মাঠের জন্য জমি বরাদ্দের কোনো উদ্যোগই নেই সংশ্লিষ্টদের। আবার অনেক বিদ্যালয়ের নামেমাত্র মাঠ থাকলেও বছরের অনেক সময়ই তা থাকে পানিতে ডুবে। সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকার লোকজন অভিন্ন সুরে বলেন, মাঠের অভাবে স্কুলগুলোতে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীর আয়োজন করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া, বর্তমান সরকার তৃনমূল পর্যায়থেকে ফুটবল খেলোয়াড় তৈরী করার জন্য নিয়মিতভাবে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছেন। কিন্তু এ উপজেলার দেড় শতাধিক স্কুলে খেলার মাঠ না থাকায় সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাহত আর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগীতাগুলো হচ্ছে দায়সারভাবে। মাঠের অভাবে প্রাক-প্রস্তুতি না থাকায় উপজেলা পর্যায়ের অনেক খেলাধুলাই মানসম্মত হচ্ছে না। এমন কি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই অনেক আয়োজনে অংশগ্রহনই করছে না।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে ৩৩ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয়। বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের পরে শিশুদের খেলার মতো জমি থাকার কথা থাকলেও এ উপজেলার বেশকিছু বিদ্যালয়েই স্থানীয় কিছু সমস্যার কারনে খেলার মতো জায়গা নেই। তবে, সকলের সহযোগীতা পেলে এ সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসতে পাড়বো বলে আশা করছি।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...