রমজানকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি

মো. জাকির হোসেনঃ–
আর কদিন পরেই সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ পবিত্র মাসকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়ছে প্রতিদিন । রোজা যত নিকটে আসছে ততই জিনিসপত্রের দাম জনসাধারনের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একদিনের ব্যবধানে ২ গুণ দাম বেড়েছে পণ্যের। বাজারে গেলেই কাঁচা তরিতরকারি, মাছ গোশত এবং বিভিন্ন ধরণের মশলার বাড়তি দাম শুনে অনেক ক্রেতাই আতকে উঠেন। তবুও বাধ্য হচ্ছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে।
সরেজমিন ঘুরে কুমিল্লার তথা দেশের অন্যতম বৃহত্তম কাচাঁবাজার নিমসার বাজার, চান্দিনা , ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বাজার, বাদশা মিয়ার বাজার, রানীর বাজার, নিউ মার্কেট, রাজগঞ্জ বাজার, চকবাজার, টমছমব্রীজ বাজার ,পদুয়ারবাজার, কংশনগর,লালমাই, বাগমারা,চৌয়ারা সহ নগরী ও এর আশপাশের বিভিন্ন বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় গত কিছু দিন পূর্বে যে সকল নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ছিল একরকম গত ২/৩ দিনে সেটা বেড়ে গেছে অনেক। রোজাকে কেন্দ্র করে ইফতার এবং সেহেরীতে আহারের বিভিন্ন সামগ্রী তথা ছোলা, বেসন, পিঁয়াজ, বেগুন, রসুন, কাঁচা মরিচ, শসা, ধনে পাতা, টমেটো, আলু, আম, আনারস, জাম, লেবু, বরফ, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংস,সহ বিভিন্ন ধরণের সামগ্রীর দাম এখন আকাশচুম্বী। সুত্র জানায়,উল্লেখিত নিত্রপ্রয়োজনীয় প্রায় সকল জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ গঠাৎ করে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বাজারে গিয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দামে মালামাল ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে।
রাজগঞ্জ বাজারে রমযানের বাজার করতে আসা চাকুরীজীবী মমিন আহমেদ জানান, যা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। বেতনের সব টাকা যদি বাজারে খরচ করতে হয় তাহলে বাকী পুরো মাস অন্যান্য খরচ কোথা থেকে করবো সেটা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে বাজারে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলকভাবে কম ছিল। রোজা আসার আগে এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছি ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে।
ময়নামতি এলাকার রাজ যোগালী মো. শুক্কুর আলী জানান, আমি দিন আনি দিন খায়। রাজ যোগালীর কাজ করে দিনশেষে ৩ থেকে ৫ শত টাকা আয় করি। বাজারের যা অবস্থা পবিত্র রোজার মাসে বউ, ছেলে মেয়েদের ভাল কিছু দিয়ে সেহেরী এবং ইফতার করাতে কষ্ট হয়ে যাবে। আমার মত গরিব দিনমজুরের বিষয়টি কেউই ভাবে না। বাজারে ঘুরে বিভিন্ন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,রোজা আসলেই কিছু কিছু পন্যের অতিরিক্ত চাহিদা বেড়ে যায়। বছর জুড়ে যে সকল পন্যের দাম যে কোন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল,সেখানে রোজা আসলে সেসব পন্যে অনেকেরই হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে রোজা আসলে যে সকল পন্যের চাহিদা বেড়ে যায় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,ছোলা,বেগুন,টমেটো,কাচামরিচ,ধনিয়াপাতা,পুদিনাপাতা,জিলাপী,শশা,লেবু,খুরমা খেজুর,রুহআফজা সহ বিভিন্ন শরবত পন্য,মাছ,মাংস,ব্রয়লার মুরগী । রোজা যত এগিয়ে যায় ততই এসকল পন্যের দাম বাড়তে থাকে। পাশাপাশি তকন বিতেক্রতারা ঈদকে পূজিঁ করে াাবারো একদফা পন্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে করে সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের বাজার। এদিকে সুত্র জানায়,প্রতিদিন এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পন্য সামগ্রীর দাম বেড়ে চললেও প্রশাসনের সঠিক মনিটরিং না থাকায় অসাধূ ব্যবসায়ীরা সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, বাজারের প্রতিটি দোকানে পন্যের মূল্য লিখে টানানোর কথা থাকলেও অধিকাংশ বিক্রেতা সেটা মানছে না। এক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেও ক্রেতারা কোন সুফল পাচ্ছেনা। জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ক্রেতা জানান,বাজারে প্রতিটি দোকানে পন্য মূল্য ঝুলানো থাকলে ক্রেতারা সেটা দেখে পছন্দের মালামাল ক্রয় করতে পারতো। কিন্তু সেটা না থাকায় অনেকেই হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এব্যাপারে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল সাংবাদিকদের বলেন,বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু আছে। পুরো রমজান মাস সেটা অব্যাহত থাকবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...