ব্রাহ্মণপাড়ার প্রাইভেট হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে প্রসুতি মা : পেটের ভিতরে সুই ও গজের টুকরা!

 

মো. জাকির হোসেন :–
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় একটি বে-সরকারি হাসপাতালে এক প্রসুতি নারীকে অস্রপচার শেষে পেটের ভিতরে সুই ও গজ রেখেই সেলাই করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পেট ফুলে গিয়ে প্রচন্ড রক্ত ক্ষরন হচ্ছে ওই নারীর। অস্রপাচারের নয় দিন পর ওই নারীকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি বে-সরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্রপচার করে কত্যর্বরত ডাক্তার পেটের ভেতর থেকে সুই ও গজ বের করেন। বর্তমানে ঐ নারী কিছুটা সুস্থ্য হলেও সম্পূর্ণ আশংকামুক্ত নন। প্রতিকার চেয়ে ঐ প্রসুতির স্বামী সফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ, হাসপাতাল ও প্রসুতি নারীর পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার গ্রামের সফিকুল ইসলাম কসবা উপজেলার বিনাউটি গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে শাবনুর আক্তার (২০) কে বিয়ে করেন। গত ২৬মে ঐ নারী সন্তান জন্মানোর ব্যাথা অনুভব করে। সেদিনই তাকে কসবার গোপীনাথপুরের গ্রীণ হেল্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্রপচার শেষে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ২৯মে হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেয়া হয়। পরে চার জুন ঐ নারী হাসপাতালে এসে সেলাই কেটে নেয়। পরদিন পাঁচ জুন তাঁর পেট ফুলে প্রচন্ড ব্যাথা ও অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরন হয়। ঐদিনই তাকে পুনরায় গ্রীণ হেল্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও ১৫ হাজার টাকা ক্যাশ জমা দিতে বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে সময় লাগায় চিকিৎসা দেয়নি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। নিরুপায় হয়ে সেদিন পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পেটের ভিতর কিছু রয়েছে বলে অনুভব করেন চিকিৎসক। পরদিন ছয় জুন পুনরায় অস্রপচার করে একটি সেলাই করার সুই ও কয়েক টুকরা গজ পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণপাড়ার মাধবপুর রয়েল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন দিনেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, প্রসুতি নারীকে অস্রপচারের পর তার পেটে সুই ও গজ রেখেই সেলাই করে দেয়া হয়েছে। এতে করে পেট ফুলে গেছে এবং প্রচন্ড রক্ত ক্ষরন হয়। নারীর এক্সরে ও আলট্রা¯েœগ্রাফ করে সুই ও গেজ আছে বলে সনাক্ত করা হয়। পরে পুনরায় অস্রপচার করে সুই ও গজ বের করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ নারী তাঁর অধিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রসুতির স্বামী সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দরিদ্র মানুষ। চটপটি বিক্রি করে চলে তাঁর সংসার। অপারেশন, পরীক্ষা ও ঔষধের জন্য গ্রীণ হেল্থ হাসপাতালকে তিনি ২৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। প্রচন্ড ব্যাথা ও রক্তক্ষরণ হওয়ার পর ঐ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আবারও ১৫ হাজার টাকা ও দুই ব্যাগ রক্ত জমা করতে নির্দেশ দেয় হাসপাতাল কর্তপক্ষ। টাকা জোগাড় করতে দুই ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু রোগী হাসপাতালে থাকলেও তার কোন চিকিৎসা দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে তার স্ত্রীকে নিয়ে আসে। গোপীনাথপুর গ্রীণ হেল্থ হাসপাতালের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, হাসপাতালে তার অস্রপচার শেষে ভালভাবেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সাতদিন পর যথা নিয়মে তার সেলাই কেটে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে ওই রোগী ব্যাথা পাওয়ায় রক্ত ক্ষরন হয়েছে। তবে ভিতরে সুই ও গজ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এ রকম হওয়ার কথা নয়। তবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান আজাদ বাদল মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালে কোন গজ ব্যবহার করা হয় না। উন্নত মালের তোয়ালে ব্যবহার করা হয়। সুই পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, পেপারে লিখেন কোন সমস্যা নেই। কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...