কুমিল্লায় বিষযুক্ত ফল বিক্রি হচ্ছে অবাধে : দেখার কেউ নেই

মো. জাাকির হোসেন :–
মধুমাসে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে এসেছে গ্রীষ্মকালীন ফল তথা আম, লিচু, আনারসসহ নানান জাতের রসালো ও সুস্বাদু ফল। বাইরের চাকচিক্য দেখে বুঝার উপায় নেই যে এসব ফল ফরমালিন মিশ্রিত। নগদ টাকা দিয়ে ফল নয় যেন বিষ কিনে খাওয়া হচ্ছে। এমনই অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন ক্রেতারা। প্রকাশ্যে হাটেঁ-বাজারে অবাধে বিক্রি হলেও নেই কোন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর। এতে সুস্বাধু ফলের স্বাদ পেলেও রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিষয়টি নিয়ে সাধারনের মত চিকিৎসকরাও চিন্তিত।
ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে এ প্রতিবেদক কুমিল্লার পাইকারী ফলের বাজার নিমসার সহ জেলার চান্দিনা,মাধাইয়া,ইলিয়টগঞ্জ,দাউদকান্দি,মুরাদনগর,হোমনা, দেবিদ্বার,কোম্পানীগঞ্জ,বুড়িচং ,ময়নামতি ক্যান্টবোর্ড মার্কেট,শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকা, নগরীর বাদশা মিয়ার বাজার, রানীর বাজার, নিউ মার্কেট, রাজগঞ্জ বাজার, চকবাজার,কান্দিপাড়,টমসমব্রীজ,পদুয়ারবাজার,চৌয়ারা,লালমাই,বাগমারা,মিয়াবাজার,চৌদ্দগ্রাম,লাকসাম,দৌলতগঞ্জ,মুদাফফরগঞ্জ,বরুড়া সহ প্রত্যান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে ও বিভিন্ন স্থানীয় সুত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়,জেলার উল্লেখিত প্রায় সকল জায়গায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ফরমালিনযুক্ত মৌসুমী ফল। সাধারন মানুষের বোঝার কোন উপায় নেই টাকা দিয়ে তারা মৌসুমী সুস্বাদু ফল কিনছে নাকি বিষ ক্রয় করছে । দায়িত্বশীল সুত্র জানায়,মৌসুমী ফলগুলোতে যেখানে মাছির ভনভন শব্দে ত্রাহী অবস্থা সেখানে কোন ফলের ভিতর দেখা যাচ্ছো না সেই মাছির ভীড়। সুত্র আরো জানায়,ফলগুলোতে ফরমালিন দেওয়ার কারনে মাছি ভীড়তে পারছেনা ফলের কাছ্ ে। বিষয়টি সাধারন মানুষ বুঝলেও করার কিছু থাকে না। নগরীর কান্দিরপাড় ও রাজগঞ্জ এলাকায় ফল বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা দেশের বিভিনস্থান সহ জেলার প্রধান ফলের পাইকারী হাট নিমসার থেকে এসব মৌসুমী ফল ক্রয় করে এনে বিক্রি করছেন। তাদের জানা নেই,ফলগুলো ফরমালিন যুক্ত না ফরমালিন মুক্ত। একইভাবে কয়েকজন ক্রেতাও জানান,পরিবারের সদস্যদের জন্য চাহিদার কথা চিন্তা করে তারা ফল কিনছেন। সেখানে সেটা ফরমালিনযুক্ত কিনা তা তারা জানেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফল বিক্রেতা জানান,পরিবহন সমস্যার কথা চিন্তা করে অনেক পাইকারী ফল ব্যবসায়ী কিছুটা অপরিপক্ক ফল গাছ থেকে পেরে সেগুলোতে ফরমালিন দিয়ে দেয়। এতে দীর্ঘ সময় সেগুলো সতেজ থাকে। তবে এক্ষেত্রে প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। তারা এসব ফল কিনে বাড়ি নিয়ে বুঝতে পারেন প্রতারিতের ঘটনা। এগুলোতে স্বাদ নেই একেবারেই।
রাজগঞ্জ বাজারে বাজার করতে আসা নূরপুরে বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, ছেলেমেয়েরা বায়না ধরেছে লাল টকটকে আম কিনে আনার জন্য। কিন্তু ফলের দোকানে থরে থরে সাজানো মধুমাসের আম কিনে নিতে মনে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ কোন ফলটা ফরমালিন ছাড়া আর কোন ফলটা ফরমালিন যুক্ত তা বুঝার উপায় নেই।তবুও তাকে কিনতে হবে সন্তানদের চাহিদার কথা চিন্তা করে। প্রকাশ্যে যখন এসব বাজারে ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রি হচ্ছে সেখানে প্রশাসন একেবারেই নিরব। তাদের দায়বদ্ধতা যেন নেই একেবারেই। তবে মূল যে সমস্যা সেটা হচ্ছে,প্রতিদিন এই সব ফরমালিনযুক্ত মৌসুমী ফল খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ। আর বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে রোগাক্রান্ত মানুষের ভীড়। বাজারে ফরমালিনযুক্ত খাবারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার হুমকী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃআজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন,বাজারে কোনটা ফরমালিনমুক্ত আর কোনটা ফরমালিনযুক্ত সেটা বোঝার কোন উপায় নেই। তবে প্রতিদিন এসব ফল খাওয়ার ফলে মানুষের ক্যান্সার,মুখে ঘাঁ,কিডনি বিকল,গর্ভবতী মায়েদের সন্তান বিকলাঙ্গ,চোঁখের সমস্যা সহ দীর্ঘ মেয়াদী রোগ হতে পারে। তাই ফরমালিনযুক্ত ফল খাবার গ্রহনে মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...