প্রেসক্রিপশনে নকল-ভেজাল ক্ষতিকারক অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট ঔষধের নাম না লিখার আহবান জানান দেবীদ্বারে ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :—
জীবণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে লিখা ঔষধের নামের তালিকায় নকল, ভেজাল, সরকার অননুমোদীত অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট ঔষধের নাম না লিখার আহবান জানিয়েছেন ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট ঔষধ ব্যবসায়ি এসোসিয়েশন’র দেবীদ্বার ও মুরাদনগর শাখার কর্মকর্তারা। সোমবার সকাল ১১টায় দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সরকারী ও বেসরকারী চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময়কালে ঔষধ ব্যবসায়ি নেতারা ওই আহবান জানান।
ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট ঔষধ ব্যবসায়ি এসোসিয়েশন’র কুমিল্লা জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, কোম্পানীগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি ডাঃ আবুল কাসেম খান, দেবীদ্বার উপজেলা সভাপতি রবিন্দ্র চন্দ্র পাল, সাধারন সম্পাদক আঃ খালেক বাবুল, মুরাদনগরের সাধারন সম্পাদক একে মজিবুল হক, দেবীদ্বার ‘ফারিয়া’র সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম, আনোয়ারুল হক, দিপঙ্কর সাহা, হাবিবুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, মোঃ কাজী আব্দুল মবিন, মোঃ মনির হোসেন আলেকসহ ব্যবসায়ি নেতারা আরো জানান, সারা দেশে ঔষধের ফার্মেসিগুলোতে ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে নকল, ভেজাল, সরকার অননুমোদীত অবৈধ ঔষধের রমরমা ব্যবসা চলছে। যে ব্যবসায় আমরা লাভবান হচ্ছি সত্য কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। সেই প্রতারনায় আমাদের স্বজনেরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ি সমিতি জনস্বার্থে এসব অবৈধ ও ক্ষতিকারক জীবণ নাশের ঔষধ বিক্রয় করবোনা। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সহযোগীতা খুবই জরুরী। চিকিৎসকগন জণস্বার্থে তাদের ব্যবস্থাপত্রে ওই জনস্বার্থ বিরোধী ঔষধের নাম না লিখলে সাধারন মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, আমরাও গ্রাহকদের সাথে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবেনা।
এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানী (প্রতিষ্ঠান), ঔষধ প্রশাসনের লাইসেন্স নিয়ে ওই লাইসেন্সের আড়ালে নামে- বেনামে নি¤œ মানের ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্ট, ভূয়া-ভেজাল ঔষধ উৎপাদন এবং বাজারজাত করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে বানিজ্য করে যাচ্ছে। প্রশাসনের কোন তদারকী না থাকায় আমরা ঔষধ ব্যবসায়িরাই সরকারী- বেসরকারী চিকিৎসকদের সাথে মত বিনিময়ে ওইসব অবৈধ ও ক্ষতিকারক ঔষধ প্রেসক্রিপশনে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র আর, এম, ও ডাঃ আ.ন.ম.বশির আহমেদ বলেন, আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কখনোই ভেজাল ঔষধ ব্যবস্থাপত্রে লিখতে চাইনা। কিছু স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি আছে, যারা একসময় বিপথগামী ছিল, তাদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধ সংগঠনে যুক্ত থাকারও অভিযোগ আছে। ওরা এখন ওই পথ থেকে সড়ে এসে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীতে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করছে। তাদের কেউ কেউ কিছু ক্ষতিকর ঔষধও বাজারজাত করছে। তিনি ব্যবসায়ি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন সেই বিক্রয় প্রতিনিধিদের ভালো নামি দামি ঔষধ কোম্পানীতে যুক্ত করে দিলে ভেজালের প্রভাব থেকে সাধারন রোগীরা মুক্তি পাবে। তবে তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে রেজিষ্ট্রেশন বহির্ভূত ভেজাল ও ক্ষতিকর ঔষধ প্রেসক্রিপশনে না লিখার অনুরোধ করেন।
ইউনানী ও হারবাল ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি মুকবল হোসেন, মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ মোবারক হোসেন বলেন, ইউনানী ও হারবাল ঔষধ জীবন রক্ষায় যুগ যুগ ধরে কার্যকর ঔষধ হিসেবে স্বীকৃত। এসব ঔষধ বিক্রয়ে বাঁধাগ্রস্থ করতে ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা সুবিধা প্রদানে প্রভাবিত করে ঔষধ ব্যবসায়ি সমিতির মাধ্যমে চিকিৎসকদের উপর প্রভাব বিস্তার করছে।
বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নিরাময় ক্লিনিকের স্বত্বাধিকার ও চিকিৎসক ডাঃ হুমায়ুন কবির বলেন, অনিচ্ছা সত্বেও প্রেসক্রিপশনে লিখার অনুমতিবিহীন অকার্যকরি এসব জীবন নাশক ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লিখতে হচ্ছে। একজন রোগী ২শত টাকা নিয়ে আসলে ওই ভেজাল ঔষধটা তাকে কিনতে হয় ৩শত বা ৪শত টাকায়। তার জন্য একটি বাড়তি চাঁপ বাড়িয়ে দেয় ওই ঔষধ। কারন তার ধারনা জীবণ রক্ষায় অন্যান্য ঔষধের আগে নানা ফলের ছবি দিয়ে রঙ্গীন পেকেটের ভেতরের ভিটামিন ঔষধটি বেশী কার্যকর হবে। সরল বিশ্বাসে অতিরিক্ত টাকায় জীবণ রক্ষায় কার্যকর ঔষধ ক্রয়ের পূর্বে ওই জীবণ ধ্বংসকারী ঔষধটি ক্রয় করে নেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক জানান, আমরা অনেক সময় ঔষধ কোম্পানীর দালালদের কাছে জিম্মি থাকতে হচ্ছে। রোগীর চিকিৎসাপত্র প্রদানের সময় হুমড়ি খেয়ে প্রেসক্রিপশন পর্যবেক্ষন করে। আবার রোগী চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হলে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানা টানি করতে দেখা যায়, কোন কোম্পানীর কোন ঔষধ লিখা হলো ? প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হয়। প্রশাসনকে জানিয়েও কোন কার্যকর সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে শ্রোতধারায় তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন ও ঔষধ প্রশাসনের তদারকী না থাকলে জীবন নাশক ঔষধ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে ষ্টোরয়েট সমৃদ্ধ ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, মিনারেল ও জিংসমৃদ্ধ ঔষধগুলো আটা, ময়দার সঙ্গে রং ও চিনি মিশিয়ে বিভিন্ন ফল ও ঔষধী লতাপাতার ছবি দিয়ে আকর্ষনীয় রঙ্গীন পেকেটজাতে ক্রেতার দৃষ্টি নন্দিত আকর্ষণ বাড়িয়ে তৈরী এসব ভিটামিন ও ফুড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মানব দেহে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ডেকে আনছে। এসব ভেজাল ও মানব দেহের ক্ষতিকারক ঔষধ উচ্চমূল্যে বিক্রয়ে উৎপাদক, এজেন্ট, বিক্রয় প্রতিনিধি, নামি ধামী চিকিৎসকসহ সব পক্ষই সুবিধা পাচ্ছে। কিছু অসাধু চিকিৎসক আর্থিক সুবিধায় এবং চাঁপের মুখে ওইসব ঔষধ প্রেসক্রিপশনে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। অপর দিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এসব ঔষধ বিক্রি করছে। উপরন্ত ওইসব অসাধু ব্যবসায়িরা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে নামি ধামী ও কার্যকর ঔষদের পরিবর্তে ক্রেতাদের ভুল বুঝিয়েও ওই ভেজাল ঔষধগুলো বিক্রয় করছে। মতবিনিময় সভায় অন্যান্য চিকিৎসকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ জাকির হোসেন, ডাঃ সুমন চন্দ্র বনিক, ডাঃ তানজিব হোসেন, ডাঃ আতাউল মোর্শেদ, ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, ডাঃ নাজমুল হাসান, ডাঃ শরিফুল ইসলাম প্রমূখ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...