ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গৃহবধুকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দিলো শাশুরী

মোঃ আক্তার হোসেন :–
পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কোহিনুর আক্তার (২৮) নামের তিন সন্তানের জননীকে শারীরিক নির্যাতন ও গাঁয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল শাশুরী। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বগাবাড়ি গ্রামে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় ও কোহিনুরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৫ সালের ১৭ জুন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের আবুল বাশারের কন্যা কোহিনুর আক্তার (২৮) এর সাথে বিয়ে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বগাবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে ও সাহপুর আফসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছলেহ উদ্দিনের সঙ্গে। বিয়ের পরে তাদের সুখের সংসারে জন্ম দেয় দুই ছেলে ও এক মেয়ে। কিন্তু এক সময় ওই সুখের সংসারে কাল হয়ে দাড়াঁয় অভিশপ্ত যৌতুক। যৌতুকের দাবীতে স্বামী, ভাশুর, শাশুরী ও ননদদের নির্মম অত্যাচারে নেমে আসে কোহিনুর আক্তার উপর। বিভিন্ন সময়ে দাবীকৃত যৌতুকের টাকা তার বাবা পরিশোধ করলেও দিন দিন অত্যাচারের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার সকালে লাকরী কাটার মত তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামী, শাশুরী ও ননদদের নির্মম অত্যাচার স্বীকার হয় ওই তিন সন্তানের জননী কোহিনুর আক্তার। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেও চুপ থাকতে পারেনি শশুর বাড়ির লোকজন। অবশেষে কোহিনুর আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় শাশুরী সহ পরিবারের লোকজন। কোহিনুর আক্তারের আত্ব-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্ত্যব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাকে প্রেরন করেন।
আহত কোহিনুর আক্তার জানান, লাকরী কাটা নিয়ে প্রথমে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরত্ব আহত করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন তার শাশুরী সহ পরিবারের লোকজন।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: শারমিন আফরোজ জানান, ওই গৃহবধূর শরীরের প্রায় ২০ ভাগ পুড়ে গেছে। তার গায়ে কিছু আঘাতেরও চিহ্ন দেখা যায়।
কোহিনুর আক্তারের বাবা আবুল বাশার জানান, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাইর মটরসাইকেল ক্রয় করার জন্য ৭৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে তাদের দাবী দাওয়া পূরণ করা হয়, তার পরও আমার মেয়ের সুখ হলো না। আমরা এই নির্মম অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ গোলাম মোর্শেদ কুমিল্লাওয়েব ডটকম’কে জানান, এ দরনের কোন ঘটনার অভিযোগ এখনো আমরা পাইনি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...