মুরাদনগরে প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে স্কুলের ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ ইউএনও’র

মো. হাবিবুর রহমান :–
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল রহিম-রহমান মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় উন্নয়নের নামে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগটির কাগজপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন গিয়ে প্রকাশে-গোপনে তদন্ত করে স্ব-ব্যাখ্যাত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সোমবার উপজেলা মাধ্যািমক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
জানা যায়, কাজিয়াতল রহিম-রহমান মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লা উন্নয়ন কাজের নামে বিদ্যালয়ের তহবিল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দারোরা বাজার শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং ৩৩৫১ থেকে ৯ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করেন। এ টাকা ফেরত চাওয়ায় সাবেক প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন খানকে উক্ত বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মোল্লা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বিগত ১৪ বছরের হিসাব-পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন ২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একই দিনে ২টি চেক দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লার ভাই আব্দুর রহমান মোল্লা ২ লাখ করে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন (যার চেক নং ৫৯৪৪৮৪ ও ৫৯৪৪৮৫)। যা পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দারোরা বাজার শাখা থেকেই ডিডির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লার মালিকানাধীন ইরান টেক্সটাইল লিমিটেডে ৪ লাখ টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ৭ মে আরো ৩ লাখ টাকা অফিস সহকারী শাহজাহান মিয়াকে দিয়ে উত্তোলন করেন (যার চেক নং ৭২৬৩০)। একই মাসের ১০ মে আরো ২ লাখ টাকা ইরান টেক্সটাইল লিমিটেডের সাবেক মার্কেটিং ম্যানেজার বাদল মিয়াকে দিয়ে উত্তোলন করেন (যার চেক নং ৭২৬৩১)। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লা আত্বসাতকৃত টাকা ফেরত দেম-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করছে। এ নিয়ে এলাকার সর্বমহলে তোলপাড় চলছে। বিষয়টির ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মোল্লা সোমবার বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগটির কাগজপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন গিয়ে প্রকাশে-গোপনে তদন্ত করে স্ব-ব্যাখ্যাত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সোমবার উপজেলা মাধ্যািমক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ও আনোয়ার হোসেন মাস্টার জানান, প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকার দুর্ণীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, আমি দায়িত্ব থাকাকালে প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লা বিদ্যালয় উন্নয়ন করার নামে দুইটি চেকে ৪ লাখ টাকা তুলে নেন। যা কোন প্রকার কাজ না করেই আত্মসাত করেন। এ টাকা পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করা হয়েছিল (যার নং দেওয়ানী ৩২/২০০৫)। অপর দিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন খান জানান, বিদ্যালয়ের বিল্ডিং করার জন্য প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন মোল্লা আমি দায়িত্বে থাকাকালে দুইটি চেকে ৫ লাখ টাকা তুলে নেন। কোন প্রকার কাজ না করেই তিনি টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, আমার আমলে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। পূর্বের কিছু ঘটনা নিয়ে প্রায় সময়ই কানাঘোষা শোনা যাচ্ছে। সত্য-মিথ্যা কিছু জানি না।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অভিযুক্ত মনির হোসেন মোল্লা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্নসহ বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে হাওলাত হিসেবে বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য অনেক টাকা ধার নেয়া হয়েছিল। যা পরবর্তীতে আমি বিদ্যালয় তহবিল থেকে নিয়েছি। বিদ্যালয় উন্নয়নের নামে আমি টাকা নিয়ে কাজ না করে আত্মসাৎ করার বিষয়টি সঠিক নয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...