অজানা এক রাহুরদশায় বিপর্যস্ত দাউদকান্দি শহীদনগরের ট্রমা সেন্টার

মো.আলী আশরাফ খান :—
অজানা এক রাহুরদশায় যেন বিপর্যস্ত এখন কুমিল্লার দাউদকান্দি শহীদনগরের ট্্রমা সেন্টার। সকলের মুখে মুখে একই কথা, কি এই অজানা রাহুরদশা ভর করেছে কুমিল্লা দাউদকান্দি শহীদনগরের এই ট্টমা সেন্টারটির উপর? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে কোন প্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত অতঃপর নির্মাণই কষ্টসাধ্য ব্যাপার সেখানে প্রায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও এই প্রতিষ্ঠানটির উপর রাহুরদশা যেন কাটছেই না!
দেশের প্রাণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় কবলিত আহতদের দ্রুত সেবা দেয়ার লক্ষ্যে তৎসময়ে ক্ষমাতাসীন বিএনপি সরকার ২০০৫ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদনগর ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করেন। পরপর দুই সরকারের আমলে দু’জন বাঘাবাঘা স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ট্্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। ধুমধাম করে চালু হয় মহাসড়কের পাশে এই গুরুত্বপূর্ণ ট্্রমা সেন্টারটি। কিন্তু কি এক অজানা রাহুরদশা চেপে বসে এর উপর। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। জোড়াতালি দিয়ে ক’দিন চালানো যায় এতো বড় প্রতিষ্ঠান? একসময় ট্রমা সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শুধু কি তাই! ধীরে ধীরে ট্রমা সেন্টারটির আঙ্গিনা পরিণত হয় অবৈধ হাট-বাজারে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর কর্তৃত্বে চলে এই রমরমা ব্যবসা। অথচ এমন কোন দিন নেই যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূর্ঘটনা ঘটে না। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যায় না কোন রোগী। বঞ্চিত হয় না চিকিৎসা সেবা থেকে সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ যে, ২০০৬ সালে ৬ অক্টোবর বিএনপি সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাউদকান্দির শহীদনগরের ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ২০১০ সালে ৩০ এপ্রিল ২০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি আবার উদ্বোধন করেন আ.লীগ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী আ. ফ. ম. রুহুল হক। নির্মাণের প্রায় ১০ বছর পার হয়ে গেলেও শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ না থাকায় হাসপাতালটি অকার্যকর হয়ে পরে রয়েছে। যদিও পরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর হাসপতালের কোয়ার্টারে কিছু ডাক্তার, নার্স ও নিরাপত্তা কর্মীরা বসাবাস শুরু করেন। নামমাত্র সেবা প্রদান শুরু হয়। কিন্তু হঠাৎ করে কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর শহীদনগর ট্রমা সেন্টার কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। বিজ্ঞপ্তিতে কর্মরত ৭ জন ব্যক্তি থাকার কথা থাকলেও ১জন ওয়ার্ডবয় ছাড়া হাসপাতালে আর কেউ নেই এখন। হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ওয়ার্ডবয় থাকার কথা থাকলেও কাউকে পাওয়া যায় না। অবাক হওয়ার মত বিষয় যে, পরপর দুই সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করলেও এখনও চালু হয়নি ট্রমা সেন্টারটি! মহাসড়কে দুর্ঘটনা কবলিতদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে। অপরদিকে হাসপাতালের আঙ্গিণা দখল করে অবৈধভাবে হাট-বাজার বসিয়ে ইজারা নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। তারা প্রতিটি দোকান থেকে ৫০/১০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
চাঁদা আদাকারী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর সাথে এব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, ‘শহীদনগর বাজার আমরা সরকারিভাবে ইজারা নিয়েছি। তাই ইজারার টাকা আদায় করছি।’ অথচ দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মহাসড়কের উপর বাজারটি অবস্থান বিধায় এ বছর থেকে তা বাতিল করা হয়েছে’।
এব্যাপারে স্থানীয় এক সমাজসেবী বলেন, ‘দুই দুই বার ঢাকঢোল পিটিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হলেও কিছু দিন যাওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কবলিত রোগী ও এলাকাবাসী বরাবরই তাদের সেবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে’। তিনি জোর দাবি জানিয়ে বলেন,‘আমরা চাই এই ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করা হোক’।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধনের পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগের পর আজ পর্যন্ত কোন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিলের অনেক টাকা বকেয়া থাকায় আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।’

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...