তিতাসে বজ্রপাতে নিহত সজলের পাশের খবরে গগণবিদারী কান্নায় বাকরুদ্ধ পরিবার

নাজমুল করিম ফারুক :–
কুমিল্লার তিতাসে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ফলাফলে গত ৭ মে বজ্রপাতে নিহত উপজেলার জগতপুর যাত্রাবাড়ির নিবাস চন্দ্রের ছোট ছেলে সজল চন্দ্রের পাশের খবর পেয়ে গগণবিদারী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তাঁর পুরো পরিবার। সে প্রকাশিত ফলাফলে ৩.০৬ পেয়ে পাশ করেছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়।
এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাঁর মা শেফালী রানী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং বাকরুদ্ধ হয়ে যান। নিহতের পিতা নিবাস চন্দ্র কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘‘আমরা গরীব দিন এনে দিনে খাওয়া মুচি সম্প্রদায়ের লোক, আমাদের ছেলেরা লেখাপড়া করার তেমন কোনো সুযোগ পায়না। কিন্তু ছেলেটার লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে তার মায়ের কথায় তাকে যতটুকু চায় লেখাপড়া কারানোর সুযোগ করে দিতে চেয়েছি। সারাদিন কাজ করেও ছেলেটা নিজের ইচ্ছায় লেখাপড়া করতো। টাকার অভাবে ভালো কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেটও পড়াতে পারিনি। যতটুকু করেছে তা সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়ই করেছে। কিন্তু আমার ছেলে পরীক্ষার ফলটাও দেখে যেতে পারলনা। ভেবেছিলাম ছেলে পাশ করলে ভালো কোনো কলেজে পড়ে দিন মজুরের নামটা ঘুঁচাবে। কিন্তু তা আর হলনা”।
এই বিষয়ে উপজেলার জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, যাত্রাবাড়ি থেকে সাধারণত ছেলেরা হাইস্কুল পর্যন্ত আসেই না। কিন্তু এই ছেলেটা নিয়মিত ছাত্র ছিল আমাদের স্কুলের এবং লেখাপড়ার প্রতি তাঁর যথেষ্ট আগ্রহও ছিল। আর সব সময় হাস্যোজ্জ্বল থাকতো। ছেলেটা পাশ করেছে দেখে একজন শিক্ষক হিসেবে আমারও অনেক কষ্ট হচ্ছে। ভেবেছিলাম ওই গ্রামে থেকে ছেলেটা পাশ করে ভালো কিছু করলে ভাবিষ্যতে গ্রামের আরো ছেলেরা স্কুলে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মে দুপুরে ফসলী জমিতে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন সজল চন্দ্র ও তার বড় ভাই অপু চন্দ্র। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে বড় ভাই অপুু বাঁচলেও বাঁচানো যায়নি সজলকে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...