চলতি সপ্তাহে ২টি রাজনৈতিক হত্যাকান্ডে তিতাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত

সাইফুল ইসলাম শিশির,কুমিল্লা :–
কুমিল্লার তিতাসে সন্ত্রাসী-অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।প্রায় প্রতিদিনই রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির ফলে হত্যাকান্ড ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতসহ একাধিক অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে উপজেলাটিতে।এসব কারণে তিতাস উপজেলা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে উঠেছে।গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর পুরো তিতাসকে জিম্মি করে তারা অপরাধের স্বগর্রাজ্যে পরিণত করে।দেড় বছর ধরে তিতাসে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের অবাধ বিচরণের জবাবে সর্বস্তরের মানুষ আজ ফুঁসে উঠেছে।চলতি সপ্তাহে ২টি রাজনৈতিক হত্যা ও সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হলেই উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ডাকাত-আতঙ্কে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।এই কারণে তিতাস উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়,গত ২১মে বৃহস্পতিবার রাত্রে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের হারাইকান্দি গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার গ্রুপর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম গ্রুপর ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে শাহ আলম নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন।গত ১৫মে বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম (সোহেল) গ্রুপের সঙ্গে কুমিল¬া (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বাবু গ্রুপের গোলাগুলিতে ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মাসুমকে পিক-আপ ভ্যান চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। রাতভর গোলাগুলির ও সংর্ঘষের রাস্তা অবরোধ কালে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মাসুম সরকার নিহতের ঘটনায় কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন ফকির বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে গত ১৭মে শনিবার তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে দু’টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক।এদিকে, হত্যাকান্ড গুলোতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার একাধিক সংঘর্ষে ও হত্যাকান্ডে প্রকাশ্য অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে অপরাধীরা।অথচ পুলিশ সেসব অস্ত্র উদ্ধার করতে পাড়ছে না। অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেই চলছে। সর্বত্র ডাকাত-আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদী ঘেঁষা গ্রামগুলোতে রাত হলেই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।এ ছাড়া মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত থাকায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আলোচনা-সমালোচনা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।অপরদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

এবিষয়ে রাজনীতিক মহল, সুশীল সমাজের নেতারা, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ জানান,সম্প্রতি একাধারে দু’দিন বন্দুকযুদ্ধ চলে দু’গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক পথচারী নিহত ও উভয় গ্রুপের শতাধিক মানুষ আহত হন।উভয়ে পক্ষে শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চলে।ওই ঘটনায় শতাধিক লোককে আসামি করে মামলা দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় যোগসাজশে গ্রেফতার ও মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে।বাতাকান্দি বাজার দখল নিয়েও আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, ভারি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধাওয়াপাল্টা ভাংচুর ও ব্যাপক লুটতরাজ হয়েছে। এতেও এককর্মী নিহত হন।গত এপ্রিলে মজিদপুর গ্রামের হালিম মিয়ার বাড়িতে তিতাস ও হোমনা থানার ওসির উপস্থিতিতে হঠাৎ সন্ত্রাসীরা ভারি অস্ত্র দিয়ে গোলাগুলি শুরু করলে সামাজিক অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। এর দুই মাস পূর্বে দড়িকান্দি গ্রামের আতাউর রহমানকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে হত্যার পর তার লাশ গুম করে রাখে শিবপুর গ্রামের সরিষা খেতে।এর ফলে তিতাসে বর্তমান আইনশৃংখলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই দায়ী করেছেন অনেকেই।গত বছরের থেকে খুন, চুরি-ডাকাতি, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক অবাধে বিকিকিনিসহ নানা অপরাধ পুরো তিতাসকে সন্ত্রাসী-অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে ।তিতাসের মানুষের নিরাপত্তা বিধানে প্রতিনিয়তই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে থানা পুলিশ। বাধ্য হয়ে বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী।যাদের এসব নিয়ন্ত্রণ করার কথা সেই পুলিশই জড়িয়ে পড়েছে এতে। থানার ভেতরে দাগী সন্ত্রাসী ও দালালদের উৎপাত,এবং উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা।এতে দুর্দশাগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...