আতঙ্কিত তিতাসবাসী : ৬ দিনের ব্যবধানে আবারও খুন, শাহ আলম হত্যাকান্ডের অভিযোগে আটক ২

নাজমুল করিম ফারুক :–
কুমিল্লার তিতাসে ৬ দিনের ব্যবধানে আবারও একজন খুন হওয়ায় তিতাসবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার হাড়াইকান্দি গ্রামের প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত শাহ আলম হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। অভিযুক্ত আসামীদের বাড়ীঘর ভাংচুরসহ লুটপাট চালানো হয়েছে। আটককৃত ২ জন হলো- কলাকান্দি গ্রামের মৃত ধনু মিয়ার ছেলে খোকন ও হাড়াইকান্দি গ্রামের জহির মিয়ার ছেলে রনিকে আটক করেছে পুলিশ।
সরেজমিনে হাড়াইকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত শাহ আলমের লাশ শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ২টায় নিজ বাড়ীতে পৌছলে নিহতের ছোট ছোট ৩ সন্তান শাকিব (১৩), রাকিব (৯), চাঁদনী (৫) এর কান্নায় আশেপাশের লোকজনও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বাড়ীর এ দৃশ্য দেখে কিছু না বুঝলেও হতবাক হয়ে আছে ৩ বছর বয়সী শিশু সন্তান রামীম। নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ আলাউদ্দিন আমার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। সাহেব বাড়ীর পুকুর পাড়ে ছাগল যাওয়ায় আলাউদ্দিন আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের বড় ভাই দৈনিক জনকন্ঠের অফিস সহায়ক নূরে আলম দাবি করেন, শাহ আলম উপজেলা কৃষকলীগের এবং কলাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য। তিনি আরো বলেন, পূর্বপরিকল্পিত ভাবে কলাকান্দি ও হারাইকান্দি গ্রামের বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ও মাসুকের নেতৃত্বে লিটন, আরিফ, খোকন, হুমায়ুন, কাউছার, হারুন ও রুবেল তার গতিরোধ করে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় নিহতের জানাজা শেষে হাড়াইকান্দি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলমের মৃত্যুর খবর শোনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী হাড়াইকান্দির আলাউদ্দিন, রফিকুল, সবুজ, জহির, আরিফ এবং কালাচানকান্দির অহিদ, খোকন, হারুন ও হেরনের বসতঘর ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট করে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, কলাকান্দি গ্রামের ইব্রাহিম ও হাড়াইকান্দি গ্রামের বাহার বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্বের সংঘর্ষের জের ধরে একে হত্যা করা হয়। গত বছরের ২১ নভেম্বর ইব্রাহিম ও নাছির-বাহার গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সেন্টু নামে একজন টেটাবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। উক্ত মামলায় নিহত শাহ আলম আসামী ছিলেন। সেন্টু হত্যার আগে গত বছরের ১১ অক্টোবর যুবলীগ নেতা নাছির-বাহার ও ইব্রাহিম গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় ১০ জন। এসময় বাড়িঘর ভাংচুরসহ লুটপাট চালানোর সময় পুলিশ ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উক্ত ঘটনার পর ১৪ অক্টোবর উভয় গ্র“পের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। ঐ সময় কলাকান্দি, হাড়াইকান্দি ও কালাচানকান্দি গ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, গত ১৫ মে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামীলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম সরকার খুন হন। উক্ত হত্যাকান্ডের ৬ দিনের মাথায় প্রকাশ্যে আরেকজনকে কুপিয়ে হত্যা করায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। অনেকে মনে করেন, মাসুম সরকার নিহতের ঘটনায় প্রশাসনে রদবদল হওয়া এবং প্রশাসনের চোখ যখন মাসুম হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যস্ত তারই ফাঁকে এ হত্যাকান্ডটি ঘটে।
হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, মুরাদনগর সার্কেল ইকবাল হোসেন হাজারী ও তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (সার্বিক) মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে থাকা তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (সার্বিক) মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...