মনোহরগঞ্জে ৩ সন্তানের জননীকে হত্যার ১৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ঘাতক স্বামী

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:–
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কাশঁই গ্রামের জরিনা বেগম (৩০) নামে একগৃহ বধূকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই মো: সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দিন মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের সতীন নূরুন নাহার পাখিকে (২২) গ্রেফতার করে। পরে তাকে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় । কিন্তু ঘটনার ১৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি মামলার প্রধান আসামী নিহতের স্বামী ঘাতক জমির উদ্দিন খোকন (৩৫)। সে ঘটনার দিন থেকেই পলাতক রয়েছে।এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাতক জমির উদ্দিন খোকনকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে। জানা যায়, গৃহবধু জরিনা বেগমকে হত্যার ঘটনার পর থেকে তার স্বামী ঘাতক জমির উদ্দিন খোকন ৩ সন্তানকে অজ্ঞাত মোবাইল নাম্বারে ফোন করে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। নিহতের তিন সন্তান বর্তমানে আতঙ্কে আছে। অন্যদিকে মাকে হারিয়ে বারবার মুর্ছা যাচ্ছে নিহতের দুই ছেলে সাহাদাত হোসেন আরমান (১৩) ও মোবারক হোসেন সিপন (১২) ,মেয়ে সূর্বণা আক্তার খুকি (১৪)। গত ৭ মে বৃহস্পতিবার রাতে জরিনা বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় । পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে তার সতীন নূরুন নাহার পাখি ও স্বামী জমির উদ্দিন খোকন তাকে গলা টিপে ও বালিশ ছাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে । এঘটনার পর নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৯ তারিখ ৮/৫/২০১৫খ্রি: ধারা ৩০২/৩৪। হত্যাকান্ড ঘটার পর ঘাতক জমির উদ্দিন ও তার ছোট স্ত্রী নূরুন নাহার পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় জনতা নূরুন নাহারকে আটক করে। অন্যদিকে ঘাতক জমির উদ্দিন পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, কাশঁই গ্রামের পুরাতন মসজিদ বাড়ির মৃত দুলা মিয়ার কন্যা জরিনা বেগমের সাথে একই গ্রামের হাজী বাড়ির মৃত আছাদ মিয়ার পুত্র জমির উদ্দিন খোকন এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিহত জরিনা বেগম তার বাবার বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেয় জমির উদ্দিনকে । যে সময় যা কিছু চেয়েছে জমির উদ্দিন সে সময় সাধ্যমত মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তা দিয়েছে নিহত জরিনা বেগমের পরিবার। সাংসারিক জীবনে তাদের ঘরে ১টি মেয়ে ও ২টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। জমির উদ্দিন খোকন কাশঁই গ্রামে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাতো। কিন্তু লম্পট জমির উদ্দিন নূরুন নাহার পাখি নামে এক চরিত্রহীন মহিলাকে বিয়ে করে আনে। সে মনোহরগঞ্জ উপজেলার পেড়াতলী গ্রামে মোস্তফা মিয়ার কন্যা। পাখিকে নিয়ে আসার পর থেকে শান্তির সংসারে অশান্তি শুরু হয়। চরিত্রহীন নূরুন নাহার পাখি দিন দিন জমির উদ্দিনের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতে থাকে। প্রতিদিন বিভিন্ন জিনিস নিয়ে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত জমির উদ্দিনের সংসারে । ঘটনার দিন পারিবারিক ঝগড়া হলে জমির উদ্দিন ও নুরুন নাহার জরিনা বেগমকে বেদম মারধর করে । এক পর্যায়ে তারা জরিনা বেগমকে গলাটিপে ও বালিশ ছাপা দিয়ে হত্যা করে। এঘটনা দেখে নিহত জরিনা বেগমের মেয়ে সুর্বণা আক্তার চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ থানার এসআই শেখ আবুল ফারুক ও এএসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যান। নিহতের মেয়ে সুর্বণা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান, তার মাকে তার বাবা ও সৎমা মিলে গলা টিপে এবং বালিশ ছাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা নুরুন নাহারকে ধরে পেলে। প্রশাসনের নিকট স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহত জরিনার পরিবারের দাবী এ ঘটনার সাথে জড়িত গ্রেফতার হওয়া ঘাতক নুরুন নাহারকে যাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে পলাতক ঘাতক জমির উদ্দিন খোকনকে গ্রেফতার করে যাতে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক নুরুন নাহারকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পলাতক ঘাতক জমির উদ্দিন খোকনকে গ্রেফতারের জন্য সকল ধরণের আইনী প্রক্রিয়া চলছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...