তিতাসে রাতভর আ.লীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলি জেলা ছাত্রলীগ নেতা নিহতসহ আহত ২০ ॥ আটক ২

নাজমুল করিম ফারুক :—-
কুমিল্লার তিতাসে আ.লীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলিতে জেলা ছাত্রলীগ নেতা নিহত ও ২০জন আহত হয়েছে। উপজেলার ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা সড়কের কড়িকান্দি বাস ষ্টেশনে বৃহস্পতিবার রাতভর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে দলীয় নেতাকর্মীরা। নিহত ছাত্রলীগ নেতা মাসুম সরকার (৩৫) উপজেলার জগতপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন সেলিমের ছেলে। উক্ত ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বাবু ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম সোহেল শিকদার গ্র“পের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুরে উভয়গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকাবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা সড়কের কড়িকান্দি বাস ষ্টেশনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বহিরাগত ক্যাডার হিসাবে ভাড়া আসা হোমনার বাবরকান্দি গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে রুবেল (২৮) কে আটক করা হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রাত প্রায় দেড়টায় একই স্থানে উভয়পক্ষের মধ্যে পুনরায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে মুহুর্মুহু গোলাগুলিতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ছাত্রলীগের মাসুম সরকার, লিটন, রমজান ও কামরুল গুলিবিদ্ধ হয়। হামলায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ছাত্রলীগের শেখ সাদী, রুবেল হোসেন, রকিব হোসেন, মামুন হোসেন, শাহিন মিয়া, আক্তার হোসেন, তৌফিক, জাদু, খোরশেদ আলম, সুমন আহমেদ, মুকুল হোসেন, শাহ আলম, সজিব আহমেদ, ইয়াছিন, জহিরুল ইসলাম, হারুন মিয়া, হোসেন, জুয়েল আহত হলে তাদেরকে তিতাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে লিটন, সুমন, রমজান, জহিরুল ইসলাম ছাড়া বাকীদের গুরুতর অবস্থায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। উক্ত ঘটনায় সারোয়ার হোসেন বাবু বাদী হয়ে বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার সকালে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ কুমিল্লা (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও তিতাসের জগতপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন সেলিমের ছেলে মাসুম সরকার (৩৫) মারা গেলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এবং সকাল থেকে ঢাকা-হোমনা-কুমিল্লা সড়ক এবং দুপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুরে অংশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন ভাংচুর করে। এদিকে শুক্রবার বিকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সোহেল শিকদার গ্র“পের সদস্য উপজেলার বলরামপুর গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়াকে বাতাকান্দি বাজারে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কুমিল্লা কলেজ মেডিকেলে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে সারোয়ার হোসেন বাবু জানান, ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল সিকদার তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের অফিস, অফিসের মধ্যে থাকা বঙ্গবন্ধুর এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে। এ নিয়ে আমরা ঢাকায় গিয়ে নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার সময় দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় অপেক্ষা করে। এসময় সোহেল শিকদার ও তার বাহিনী মাইক্রো, পিকআপ, মোটরসাইকেল নিয়ে অতংকিতভাবে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করার এক পর্যায়ে আমার লোকজনদের উপর গাড়ী তুলে দেয়। এতে ছাত্রলীগের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয় এবং পরে মাসুম মারা যায়। থানার ওসিকে বার বার ফোন করলেও সে আমাদের কোন নিরাপত্তা দেয়নি। ওসি নিজেও প্রতি মাসে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার লাখ লাখ টাকা বখরা নেয়। সে সোহেল সিকদারের অনুগত। এমন কি সোহেল শিকদার নিজে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি।
উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মুন্সি মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সোহেল সিকদার নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সকল কিছু সে নিয়ন্ত্রণ করে। তিতাসের যুব সমাজের হাতে মাদক তুলে দিয়ে হোন্ডা বাহিনী নিয়ে অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলে। এতে উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলে সে বেপোরোয়া হয়ে ছাত্রলীগের অফিস ভাংচুর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জেলা ছাত্রলীগ নেতা মাসুমকে গুলি করে হত্যা করে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।
ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম সোহেল শিকদার মোবাইলে বলেন, রাতের গভীরে কে কোথায় থাকে, কে বা কার গাড়ী তাদের উপর তুলে দেয়া হয়েছে এটা তো আমার জানার কথা নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিতাস থানার ওসি তারেক মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ দু’গ্র“পের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রথম ঘটনায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...