মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জণগনের আজাব খ্যাত জোট- মহাজোটের বাহিরে বাম বিকল্প বলয় গড়ে তুলতে হবে—কুমিল্লায় প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :—
বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যৌন হয়রানী এবং যৌন নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে ছাত্র ইউনিয়নের ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীতে পুলিশি হামলা ও ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশব্যপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা করেছে প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিউনিস্ট পার্টি, কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, তেল-গ্যাস-জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও গণসংগঠনের উদ্যোগে কুমিল্লা টাইন মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্তরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার’র সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক কমরেড পরেশ করের সঞ্চালনায় ওই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব কমরেড মফিজুর রহমান, সিপিবি জেলা কমিটির সদস্য কমরেড বিকাশ দেব, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কুমিল্লা জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী, বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ডা: মীর খলিলুর রহমান বাঙ্গাল, তেল-গ্যাস-জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারন স্পাদক তানভিরুল ইসলাম, তেল-গ্যাস-জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন কুমিল্লা জেলা নেতা ও শান্তি-সূনীতি স্মৃতি সংসদ’র সাধারন সম্পাদক নাছিরুল ইসলাম মজুমদার, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সভাপতি একেএম মিজানুর রহমান কাউছার, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুমিল্লা জেলা সাধারন সম্পাদক শেখ ফরিদুর রহমান, ছাত্র ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা নেতা পিযুষ চন্দ্র শীল, কুষক নেতা ডাঃ সফিকুর রহমান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, অনতি বিলম্বে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যৌন নির্যাতনকারী এবং ছাত্র ইউনিয়নের উপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মুক্তমনা ব্লগার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে এনে বিচারের মুখমোখী দাড় করাতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, দেশ এখন কঠিন ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দূর্নীতি এবং প্রতিক্রিয়াশীল শত্রুরা স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে। ফলে রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবেশসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। একারনে নারী নির্যাতন, ঘুষ-দূর্নীতি, অপহরণ-জবরদখল, খুন-ধর্ষণ, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজী, নাশকতা বেড়েছে। পুলিশ প্রশাসনের অনেকেই বেপড়–য়া ও লাগামহীন হয়ে পড়ায় অনৈতিক ও নাশকতায় জড়িয়ে পড়েছে। দেশী-বিদেশী শত্রুদের ষড়যন্ত্রে গনতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। আমলা-মাসুলবাহিনী, কালো টাকার প্রভাব, রাজনীতিতে অরাজনৈতিক, আমলা, ব্যবসায়ি মুৎসুদ্দিদের প্রভাবে সাধারন মানুষের রাজনীতির কবর হয়েছে। প্রকৃত রাজনীতিবিদরা অবমূল্যায়িত হয়ে অন্ধকারে পর্যবেশীত হয়েছে। এঅবস্থায় আ’লীগ-বিএনপি ব্যার্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে দেশ ও দেশের মানুষ এবং রক্ষায়,- মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জণগনের আজাব খ্যাত জোট-মহাজোটের বাহিরে বাম বিকল্প বলয় গড়ে তুলতে হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...