অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে মাংস : নাঙ্গলকোটে ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই জবাই হয় পশু

 

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর :–
মাংসের নামে আমরা কি খাচ্ছি ? জানা নেই আমাদের কারোরই। ভালো তাজা পশুর মাংস নাকি মরা পশুর মাংস তাও জানিনা আমরা। কারণ ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে রাতের আধাঁরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র জবাই করা হচ্ছে রোগাক্রান্ত, দুর্বল, দুগ্ধদানকারী গাভী ও গর্ভবতী গরু। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বিক্রি করা হয় মাংস। এটি ঠিক যেন দেখার কেই নেই। বাজার থেকে খাসির মাংসের স্থলে দুগ্ধদানকারী ছাগলের মাংস, গরুর নামে মহিষের মাংস, ষাঁড় নাকি গাভী, রোগমুক্ত নাকি রোগাক্রান্ত পশুর মাংস, মাপে সঠিক নাকি কম, এমন সংশয়ে ভোগেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এসব প্রশ্নের মাঝেই নাঙ্গলকোট উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে রাতের আধাঁরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র জবাই করা হচ্ছে রোগাক্রান্ত, দুর্বল, দুগ্ধদানকারী গাভী, গর্ভবতী পশু। রাঁতের আধাঁরে গাভী জবাই করে সকালে বাজারে ষাঁড় বলে ক্রেতা সাধারনকে ঠকিয়ে চার থেকে সাড়ে চারশত টাকায় প্রতি কেজি মাংস বিক্রি করা হয়। অথচ মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পশু জবাইয়ের পূর্বে পশু সম্পদ বিভাগ কর্তৃক পশু চিকিৎসক বা সুস্থ্য-সবল ও নিরোগ সনদ নিয়ে স্থানীয় ইমামকে দিয়ে জবাইয়ের নিয়ম রয়েছে। আইন থাকলেও তা মানছেন না কেউই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সব গরুতে রোগ রয়েছে সে সব গরুর মাংস খেলে মানুষের বিভিন্ন রোগ এমনকি মুত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলার কোথাও সরকারী জবাইখানা না থাকায় সড়কের উপর ও হাট-বাজারের ভিতর পশু জবাই করা হয়। ফলে পশুর রক্ত, পাকস্থলীর আবর্জনার গন্ধে সড়ক পথে যাতায়াতকারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়তে হয়। নাঙ্গলকোট সদরের কাঁচা বাজারের ভিতরে জবাই করা পশুর রক্ত ড্রেনগুলিতে আটকে থাকার কারনে পরিবেশ দুষনের পাশাপাশি চরম হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। এছাড়া মাছ-মাংস ও সবজি কিনতে আসা ক্রেতাদের চরম র্দুগন্ধ সইতে হয়। এসবের প্রতিকার ও প্রতিরোধ চেয়ে রোগমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই, মাপে সঠিক ও বাজার মুল্য নির্ধারন করার দাবী করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবদুর রাজ্জাক বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০টি গরু ও অন্যান্য পশু জবাই হয়ে থাকে এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় জবাই হয় ১৫ থেকে ২০টি গরু। নাঙ্গলকোটে কোন পশু জবাইখানা নেই। জবাইখানা না থাকার কারনে এদিক সেদিক কিছু পশু জবাই হয়ে থাকে । মাংস ব্যবসায়ীরা, বেশী দামে মাংস বিক্রী করার কথা স্বীকার করে বলেন, গরু ছাগল জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষা করতে কেউ আসেনা, সেকারনে পরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই করছে বলে দাবি করেন তিনি। সাধারন ক্রেতাগন বলেন, মুল্য নির্ধারন করা হলে এবং সঠিক পরিমাপ দেয়া হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডাঃ কামাল উদ্দিনের সাথে তিনি বলেন, প্রাণীগুলো থেকে এনথাক্স এর মতো মারাত্বক রোগ আসতে পারে, এরমধ্যে কিছু রোগ আছে তাতে মুত্যুও হতে পারে। এই রোগগুলো থেকে আমাদের বাঁচতে হলে প্রাণীগুলোকে আমাদের তদারকির মধ্যে আনতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র একেএম মনিরুজ্জজামান খাঁনের মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাঈদুল আরীফ বলেন, নাঙ্গলকোটে কোন জবাইখানা নেই। যদি জবাইখানা হয় তা হলে পশুগুলো ঠিক মতো জবাই করা হচ্ছে কিনা সেটা সুপারভাইজ করা আমাদের জন্য সহজ হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...