ভোট কারচুপির অভিযোগে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা

নিজস্ব প্রতিবেদক,দাউদকান্দি :–

ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে ব্যালটে আনারস প্রতীকে সীল, জালভোট প্রদান, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ও মারধর, সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধাসহ আ’লীগ সমর্থিত দাউদকান্দি উপজেলা চেয়্যারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছে দাউদকান্দি বিএনপি। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজী আবুল হাসেমের গৌরীপুরের বাসভবনে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তার (প্রার্থী) প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মাসুদ রেজা মিন্টু। সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা ও দাউদকান্দিতে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও স্থানীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট মাসুদ রেজা মিন্টু বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকার দলীয় এমপি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার পুত্র আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমনের সমর্থক ছাত্রলীগ যুবলীগের ক্যাডাররা বিএনপি’র নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। মোহাম্মদ আলী সুমনের সমর্থক ছাত্রলীগ যুবলীগ ক্যাডাররা শুরু থেকেই এলাকায় হাক-ডাক, মহড়া দিয়ে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে কলুষিত করেছে। এক কথায় বলতে গেলে দাউদকান্দিতে নির্বাচনের কোন সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম।
comilla_3
কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। আজ শনিবার নির্বাচন শুরুর পরপরই ৯৫টি কেন্দ্রের অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে মেজর সুমনের আনারস প্রতীকের পক্ষে গিয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগ ক্যাডাররা বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের মেরে, পিটিয়ে কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এসময় সরকারী দলের ক্যাডাররা জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্রে ঢুকে প্রকাশ্যে ব্যাপকভাবে ব্যালট পেপারে আনারস প্রতীকে সীল মারতে থাকে। কোথাও কোথাও তারা পাইকারী হারে আনারস প্রতীকের পক্ষে জালভোট প্রদান করে। সরকারী দলের যুবকরা সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তাদের ভয়ে মুহূর্তেই ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে। এসময় কেন্দ্রগুলোতে ছাত্রলীগ যুবলীগের ক্যাডাররা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তাদেরকে দেখা যায়নি। এসব ভোট কারচুপি, ব্যালটে আনারস প্রতীকে সীল প্রদান ও কেন্দ্র দখলসহ নানা অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারকে মৌখিকভাবে অবহিত করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মাসুদ রেজা মিন্টু আরও বলেন, আজকের দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন ছিল পাতানো ও প্রহসনের। আ’লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সুমনকে বিজয়ী করতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন আগে থেকেই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।

comilla_2

আমরা এ প্রহসনের উপজেলা নির্বাচন বাতিল করে পুন:নির্বাচন দাবি করছি। এ দাবি শুধু বিএনপি’র নয়, দাউদকান্দি উপজেলার সকল জনগণের। জনগণ এই ভোট কারচুপির নির্বাচন কখনোই মেনে নিবে না। এদিকে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়্যারম্যান প্রার্থী ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূইয়া এবং মহিলা ভাইস চেয়্যারম্যান প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন ডলি এই ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে চেয়্যারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়্যারম্যান পদে ১৩ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়্যারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...