নবীনগরে সাত মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি লম্পট বাবু

সাধন সাহা জয়: নবীনগর প্রতিনিধি :–

তুই যদি আমার নামকস তইলে তরে জীবনের লাইগ্গা মাইরা বস্তায় ঢুকাইয়া মেঘনা নদীতে ফেলে দিমো। কথা গুলো কেঁদে কেঁদে প্রতিনিধিকে বল্লেন গ্রাম্য অবলা নারী।

আমি আমার সন্তান সহকারে স্বামীর অধিকার চাই। আপনেরা আমার কৃষক বাবার কাছ থেকে আমারে মুক্তি কয়রা দিয়া স্বামীর বাড়িতে পাটানোর ব্যবস্থা করে দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এক প্রতারক প্রেমিক।

প্রেমিকা তার স্ত্রীর অধিকার ও নবাগত সন্তানের স্বীকৃতি আদায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ নবীনগর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টে্েরটর আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-সিআর-২৪০/১৪। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাহেব সরদাররা কয়েকবার বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি।

মামলার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত লম্পট বাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে প্রতারক প্রেমিক বাবু এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়নি।

সরজমিনে গিয়ে এবং মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বড়িকান্দি গ্রামের নুরুন্নাহার নামে এক দরিদ্র কৃষকের মেয়ের সাথে একই গ্রামের মালন মিয়ার ছেলে তহিরুজ্জামান বাবুর দীর্ঘদিন যাবৎ মন দেয়া নেয়া চলছিল।

গ্রাম্য অবলা নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই প্রতারক প্রেমিক তার সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিষয়টি উভয় পরিবারে মধ্যে জানাজানি হলে ছেলের বাবা মালন মিয়া ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে টাকা পয়সা খরচ করে মেয়েটির পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর গ্রামের আবদুল মালেক মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেয়।

হেলাল উদ্দিন বিষয়টি ওই রাতেই জানতে পেরে তাকে তালাক দেয়। এর কিছুদিন পরেই ওই অসহায় মেয়েটির কোল জুরে আসে একটি কন্যা সন্তান।

গত ১৮ অক্টোবর ওই কন্যা সন্তানকে সাথে নিয়ে পুনরায় তার স্ত্রীর অধিকার ও সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে ছেলের বাড়িতে যায়। ছেলেটির বাবা মালন মিয়া ক্ষতিপূরণ দিবে বলে তাকে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাহেব সরদাররা কয়েকবার বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি।

এক পর্যায়ে ওই মেয়েটি বাধ্য হয়ে স্ত্রীর মর্যাদা ও নবাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় আদায়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে। কিন্তু মামলার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত লম্পট বাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে প্রতারক প্রেমিকের বাবা মালন মিয়া বলেন, এটি একটি সাজানো নাটক। তবে, মেয়ের পরিবার যদি প্রমান করতে পারে যে আমার ছেলের সন্তান তাহলে আমি আমার ছেলের পুএবধু হিসাবে গ্রহন করে নিব। আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই তারা মামলা করেছে।

সমাজপতিদের কাছে ওই অসহায় মেয়েটির এখন একটাই দাবী, সে যেন স্ত্রীর মর্যাদা পায় এবং তার সন্তান যেন পিতৃ পরিচয়ে সামাজে মাথা তুলে দাড়াতে পারে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...