মনোহরগঞ্জে গলা টিপে ৩ সন্তানের জননীকে হত্যা, আটক-১

আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:–

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কাশঁই গ্রামের জরিনা বেগম (৩০) নামে একগৃহ বধূকে গলাটিপে ও বালিশ ছাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮ ঘটিকার সময়। পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে তার সতীন নূরুন নাহার পাখি (২২) ও স্বামী জমির উদ্দিন খোকন (৩৫) তাকে গলা টিপে ও বালিশ ছাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে । এঘটনার পর নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৯ তারিখ ৮/৫/২০১৫খ্রি: ধারা ৩০২/৩৪। হত্যাকান্ড ঘটার পর ঘাতক জমির উদ্দিন ও তার ছোট স্ত্রী নূরুন নাহার পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় জনতা নূরুন নাহারকে আটক করে। অন্যদিকে ঘাতক জমির উদ্দিন পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, কাশঁই গ্রামের পুরাতন মসজিদ বাড়ির মৃত দুলা মিয়ার কন্যা জরিনা বেগমের সাথে একই গ্রামের হাজী বাড়ির মৃত আছাদ মিয়ার পুত্র জমির উদ্দিন খোকন এর বিয়ে হয়। সাংসারিক জীবনে তাদের ঘরে ১টি মেয়ে ও ২টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। জমির উদ্দিন খোকন কাশঁই গ্রামে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাতো। বড় মেয়ে সূর্বণা আক্তার খুকি (১৪) কাদরা কর্ণপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। দুই ছেলে সাহাদাত হোসেন আরমান (১৩) ও মোবারক হোসেন সিপন (১২) স্থানীয় কাশঁই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের পারিবারিক জীবন শান্তিতে চলছিলো। হঠাৎ করে একদিন জমির উদ্দিন স্থানীয় কিছু দুস্কৃতিকারীদের প্রলোভনে পড়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলার পেড়াতলী গ্রামের মোস্তফা মিয়ার কন্যা নূরুন নাহার পাখিকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। পাখিকে নিয়ে আসার পর থেকে শান্তির সংসারে অশান্তি শুরু হয়। চরিত্রহীন নূরুন নাহার পাখি দিন দিন জমির উদ্দিনের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে। প্রতিদিন ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত জমির উদ্দিনের সংসারে । ঘটনার দিন পারিবারিক ঝগড়া হলে জমির উদ্দিন ও নুরুন নাহার জরিনা বেগমকে বেদম মারধর করে । এক পর্যায়ে তারা জরিনা বেগমকে গলাটিপে ও বালিশ ছাপা দিয়ে হত্যা করে। এঘটনা দেখে নিহত জরিনা বেগমের মেয়ে সুর্বণা আক্তার চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ থানার এসআই ফারুক হোসেন ও এএসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যান। অন্যদিকে স্থানীয় জনতার হাতে আটক ঘাতক নুুরুন নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতের মেয়ে সুর্বণা আক্তার পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান, তার মাকে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারীর সহযোগীতায় তার বাবা ও সৎমা মিলে গলা টিপে এবং বালিশ ছাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে ঘরের আসবাবপত্র পাশের পুকুরে পেলে দেওয়া হয়। সে প্রশাসনের নিকট তার মায়ের হত্যাকারীদের বিচার প্রার্থনা করে।স্থানীয় এলাকাবাসী এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদেরকে ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করার জন্য প্রশাসনের নিকট জোরালো দাবি জানিয়েছে। এব্যাপারে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার জানান,গতকাল শুক্রবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের লাশ দাফন করার জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...