বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে যাচ্ছে হাজার একর ফসলি জমি

মো. জাকির হোসেন :–

পয়াতের নাম শুনলেই চলে আসে কুমিল্লার একটি বড় ধরনের ফসলি জমির কথা। বুড়িচং উপজেলার সব চেয়ে বড় ফসলের মাঠ হচ্ছে পয়াতের জলা। আর এই ফসলের মাঠটি জলাবদ্ধতা আঁচড়ে পরেছে। বুড়িচং উপজেলার কয়েকজন রাঘু বোয়ালের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে এই বিশাল ফসলের মাঠটি। স্বার্থপর রাঘুব বোয়ালরা বন্ধ করে রেখেছে একমাত্র ফসলের জমি পানি নিস্কাশনের খালটি। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনম নাজিম উদ্দিন, উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম খোকন এবং সদর ইউপির চেয়ারম্যান জাবেদ কাউছার সবুজ এর সহযোগিতা খালটি উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ ফসলের মাঠ হলো পয়াতের জলাশয়। আর এই জলাশয় এখন জলাবদ্ধতা পরিনত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারনে কৃষকেরা ফসল নিয়ে পড়েছে বিপাকে। পয়াতের জলাটি ৩টি ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম নিয়ে বিস্তৃত। গ্রাম গুলো হলো বুড়িচং সদর ইউনিয়নের হরিপুর, যদুপুর, ষোলনল ইউয়িনের দিঘলিচর, আগানগর, খাড়াতাইয়া, গাজীপুর, মহিষমারা, ইছাপুরা, পয়াত, বাকশীমুল ইউনিয়নের বাকশীমুল, পিতাম্বর। এইসব এলাকায় ঘিরে পয়াত জলাটি অবস্থিত। এই জলাটিতে প্রতি বছর কয়েক শত মণ ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে কৃষকের জন্য এটি জলাশয়ে পরিনত হয়। এটা হয় শুধু কয়েকজন ব্যাক্তির কারনে। পয়াতের জলাটি থেকে পানি বের হওয়ার একমাত্র খালটির ভরাট করার কারণে এই জলাটি জলাবদ্ধতা পরিণত হয়েছে। গত ৬/৭ বছর আগেও জলাটি কৃষিকাজের উপযোগি ছিলো। কিন্তু পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় এখন কৃষক ও ফসলের জন্য হুমকী মুখে পড়েছে। বুড়িচং সদর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ার মোঃ কাসেম দারোগা, একই এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে মোঃ মাইনউদ্দিন ও আহম্মদ উদ্দিন ও বুড়িচং হাজী ডেকোরেটরের মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে আছে পয়াতের জলাটি। তারা পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে নিজের স্বার্থের জন্য খাল ভরাট করে পুকুরের পাড় নির্মাণ করেছে। ফলে পানি বের হওয়ার খালটি বন্ধ হয়ে গেছে। গত শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খালের বাঁধটি সরানোর জন্য নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট আ.ন.ম নাজিম উদ্দিন সরেজমিনে গিয়ে পরিদশন করেন। তিনি বাঁধ নির্মাণ কারীদের বাধঁ ভাঙ্গার জন্য নিদেশ দেন। এই বাধঁটি তুলে দিলে ৩ ইউনিয়নের কৃষক ফসল করতে পারবে এবং অথনৈতিক উন্নয়ন হবে। বুড়িচং উপজেলার সকলের দাবী এই বাঁধটি তুলে দেওয়ার জন্য।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...