নাঙ্গলকোটে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষকরা

মো. আলাউদ্দিন, কুমিল্লা:–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১২ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে ইরি ও বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড এবং ৮হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের চাষ করা করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি অফিসের সঠিক দিকনির্দেশনায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মওসুমের শুরুতে ধানের বাজার দর নিুদিকে হওয়ায় ধান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে ধান কৃষকের গলার কাটা হয়ে বিঁধছে। উপজেলার গোরকাটা গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান, বর্তমান বাজার দরে ধান বিক্রি করে ধানকাটা শ্রমিকদের মুজুরিও উঠছে না। আদ্রা গ্রামের কৃষক নুরুল হক বলেন, ধানের দাম এ রকম কমে যাবে জানলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ধান চাষাবাদ করতাম না। ১ বিঘা জমির ধান কাটতে ১৫জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। তাদের মুজুরি দিতে হয় ৬ হাজার টাকা। শাকতলী গ্রামের কৃষক রবিউল হক বলেন, একদিকে শ্রমিকের মুজুরি বৃদ্ধি অন্যদিকে ধানের দাম কম হওয়ায় ধান নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছি। এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না। উপজেলার আরও একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলেও ঠিক একই রকম কথা শোনা যায়। উপজেলার ভোলাইন বাজারের ধান ব্যবসায়ী আবদুল মতিন জানান, চাহিদার চেয়ে এ বছর বেশি ধান উৎপাদিত হয়েছে। তাই ধানের দাম কমে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল হাসান আলামিন জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। কৃষকরা পরার্মশ মোতাবেক কাজ করায় চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। আমরা তাই করেছে। ধানের বাজার মূল্য নিয়ে আমাদের করার কিছু নেই। তবে কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায় এজন্য আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...