তিতাসে নদী খনন নিয়ে একদিকে উত্তেজনা অপরদিকে উল্লাস

নাজমুল করিম ফারুক :–

কুমিল্লার তিতাসে হাবাতিয়া ও তিতাস নদী খনন নিয়ে একদিকে উত্তেজনা অপরদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে হাঁসি বিরাজ করছে। এতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিপাকে পড়ায় আপাতত খনন কাজ বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার চরকুমারিয়া বাজার মাঠে হাবাতিয়া নদী খনন করার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ সমাবেশ করে। উক্ত প্রতিবাদ সভায় বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, নারায়নগঞ্জ জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জাকিরুল আলম হেলাল, নারায়নগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি সাহাদাৎ হোসেন সাজনু, হোমনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান আবুল, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নুরুজ্জামান মিন্টু, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ইয়াছিন ভূঁইয়া, মহিষমারী গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি মিলন ভূঁইয়া, মাথাভাঙ্গা ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আক্তার হোসেন, মীর শওকত লিটন, মামুনুর রশিদ প্রমূখ।
এদিকে তিতাস নদী খননের কাজ শুরু হওয়ায় উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়ায় কৃষকের মুখে আনন্দ বিরাজ করছে। উপজেলার বাতাকান্দি, আকালিয়া, ঐচারচর, মাছিমপুর গ্রামের একাধিক কৃষক তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে তিতাস উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। এলাকার সেচ পানির অভাব, যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করার জন্য নদীর খনন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা এখন খুশি।
একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রায় ২ বছর পূর্বে প্রকল্পটি উপজেলা পরিষদ থেকে গৃহীত হলে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ গত দেড় বছরে প্রায় তিনবার নদীটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাতাকান্দি বাজার ও চরকুমারিয়া বাজারে গণশুনানীর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মতামত নেয়া হয়। মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। অনেকে অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, অনেক বছর পূর্বে তিতাস নদীটি খনন করা হয়েছিল তখন তো বাঁধা ছিল না, গণশুনানীকালে তিতাসে চরকুমারিয়া, বারকাউনিয়া, পুরান বাতাকান্দি, আকালিয়া, বাতাকান্দি বাজারের ব্যবসায়িগণ, হোমনা উপজেলার মহিষমারী গ্রামের সাধারণ জনগণ উপস্থিত থাকলেও এখন কেন নদী খননে বাঁধা আসছে তা কারো বোধগম নয়।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, কাঠালিয়া নদী মুখ থেকে বাতাকান্দি বাজার ভায়া মাছিমপুর পর্যন্ত তিতাস নদী খননের কাজ গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রিপ-২ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। এর মধ্যে চরকুমারিয়া বাজার থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ২৫ মিটার চওড়া এবং পঞ্চবটি থেকে বাতাকান্দি বাজার হয়ে মাছিমপুর পর্যন্ত ২০ মিটার চওড়া আকারে খনন কাজ করা হবে। প্রায় ৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৩৭ টাকা অনুমোদিত ধরে কাজটি বাস্তবায়ন করছে এডিএল-এমএনটি (জিভি) কোম্পানি। আগামী বছরের ২ মার্চের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার নদী খননের কাজটি সম্পন্ন করা হবে।
কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের এমপি আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এলাকার কিছু স্বার্থনেষী ব্যক্তির কারণে হাজার হাজার কৃষকের দাবী তিতাস নদী খনন কাজ বন্ধ থাকবে না। যারা এলাকায় লুটেপুটে খায় তারাই নিজেদের স্বার্থে অনেক সময় অনেক কিছুই বলে থাকে। তিনি বলেন, তিতাস নদীর নামে তিতাস উপজেলা বাস্তবায়ন হওয়ায় উক্ত নদীকে ঘিরে এলাকার মানুষের অনেক স্বপ্ন লালিত হয়। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ কৃষকের একটা দাবি ছিল মৃত তিতাসের প্রাণ ফিরিয়ে আনা। এলাকার মানুষের পানির চাহিদা, নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করাসহ কৃষকের ফসলী জমিতে চাষাবাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে প্রায় ২৬ কিলোমিটার তিতাস নদী খনন প্রকল্পটি পিপি-তে পাস করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সাড়ে ১১ কিলোমিটার নদী খননের কাজ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সমস্ত নদীটি খনন করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...