নবীনগরে ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই : মাংস বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে

সাধন সাহা জয়: নবীনগর প্রতিনিধি :–

ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে রাতের আধাঁরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র জবাই করা হচ্ছে রোগাক্রান্ত, দুর্বল দুগ্ধদানকারী, গর্ভবতী পশু। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে মাংস। যেন দেখার কেই নেই।

বাজার থেকে খাসির মাংস নাকি ছাগির মাংস, গরুর নামে মহিষ,ষাঁড় নাকি গাভী, রোগমুক্ত,নাকি রোগাক্রান্ত গরুর মাংস, মাপে সঠিক নাকি কম, এসংশয়ে ভোগেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

এসব প্রশ্নের মাঝেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ২৭টি স্থানে রাতের আধাঁরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্র জবাই করা হচ্ছে রোগাক্রান্ত,দুর্বল দুগ্ধদানকারী,গর্ভবতী পশু। রাঁতের আধাঁরে গাভী জবাই করে সকালে বাজারে ষাঁড় বলে ক্রেতা সাধারনকে ঠকিয়ে চারশত টাকা কেজি মাংস বিক্রী চলছে হরহামেশাই।

মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পশু জবাইয়ের পূর্বে পশু সম্পদ বিভাগ কর্তৃক ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে স্থানীয় ইমামকে দিয়ে জবাইয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। স্বাস্থ্য বিশেশজ্ঞদের মতে , যে সব গরুতে রোগ রয়েছে সে সব গরুর মাংস খেলে মানুষের বিভিন্ন রোগ এমনকি মুত্যুও হতে পারে।
উপজেলায় সরকারী জবাইখানা না থাকায় পশু জবাই করা হয় সড়কের উপর ও হাট-বাজারের ভিতর। ফলে পশুর রক্ত,পাকস্থলীর গন্ধে সড়ক পথে যাতায়ত কারিদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। নবীনগর সদরের কাঁচা বাজারের ভিতরে জবাই করা পশুর রক্ত ড্রেইনগুলিতে আটকে থাকার কারনে পরিবেশ দুষনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য পড়েছে চরম হুমকির মুখে ।
যত্রতত্র বসছে মাংসের দোকান। নবীনগরের ঐতিহ্যবাহী দুধ বাজরে গরুর মাংসের দোকান বসার কারনে দুধ কিনতে এসে চরম বিপাকে পড়েন ক্রেতারা। এ সবের প্রতিকার ও প্রতিরোধ চেয়ে রোগমুক্ত,স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই,মাপে সঠিক ও বাজার মুল্য নির্ধারন করার দাবী করেছেন ভোক্তারা।
নবীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শহীদ আতাহার হোসেন বলেন, নবীনগর উপজেলায় প্রতিদিন ৫০টি গরু জবাই হয়ে থাকে এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় জবাই হচ্ছে ৬ থেকে ৮টি গরু। নবীনগরে কোন পশু জবাইখানা নেই। জবাইখানা না থাকার কারনে এদিক সে দিক কিছু পশু জবাই হয়ে থাক্ ে।
মাংস ব্যবসায়ীরা,বেশী দামে মাংস বিক্রী করার কথা স্বীকার করে বলেন, গরু ছাগল জবাইয়ের পূর্বে পরীক্ষা করতে কেউ আসেনা,সে কারনে পরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই করছ্ ি।
সাধারন ক্রেতাগন বলেন, মুল্য নির্ধারন হলে আমাদের জন্য ভালো হয় এবং দুধ পবিত্র তাই দুধের বাজারের সাথে মাংসের দোকান থাকা ঠিক নয়।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডাঃ সাদেক মিয়া বলেন, প্রাণী গুলো থেকে এনথাক্স এর মতো মারাত্বক রোগ আসতে পারে , এর মধ্যে কিছু রোগ আছে তাতে মুত্যুও হতে পারে। এই রোগগুলো থেকে বাঁচতে হলে প্রাণীগুলোকে আমাদের তদারকির মধ্যে আনতে হবে।
নবীনগর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, জবাইখানা না থাকার কারনে যাচাই বাছাই করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। অতি তাড়াতাড়ি জবাইখানা নির্ধারিত করবো। জবাইখানা হয়ে গেলে পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়া কোন পশু জবাই করতে দেওয়া হবেনা। কেউ করতে পারবেনা।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, নবীনগরে কোন জবাইখানা নেই। যদি জবাইখানা হয় তা হলে সে ক্ষেত্রে পশু সম্পদ সেটা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কিনা, ঠিক মতো জবাই করা হচ্ছে কিনা সেটা সুপারভাইজ করা আমাদের জন্য সহজ হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...