আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-‘লাকসাম-চিনকিআস্তানা ডাবল রেললাইন উদ্বোধন করবেন’

মো. হুমায়ুন কবির মানিক :—

আজ শনিবার লাকসাম-চিনকিআস্তানা নব-নির্মিত ডাবল রেললাইনে ট্রেন চলাচলের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
এ উদ্বোধনকে ঘিরে রেল অঙ্গন সেজেছে নতুন সাজে। রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি লাকসাম রেলওয়ে জংশন পরিদর্শন করেন।
এ সময় মন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্বিঘেœ ও সুন্দরভাবে শেষ করার সহযোগিতা কামনা করেন। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, লাকসাম-চিনকিআস্তানা নব-নির্মিত ডাবল রেললাইন বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের এক মাইলফলক। এই সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। কাজ-ই দেশ উন্নয়ন করে। লাকসাম-চিনকিআস্তানা ডাবল রেললাইন উদ্বোধন হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে প্রায় ১ঘন্টারও বেশী সময় বাচবে এবং আরো কয়েকটি ট্রেন এই লাইনে সংযোজন করা হবে। রেলওয়ে হবে আধুনিকায়ন।
রেল সূত্র আরো জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি ও মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি লাকসাম রেলওয়ে জংশনে অবস্থান করে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য লাকসাম উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন মোঃ তাজুল ইসলাম এমপির নির্দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী জানান, ১ হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের চিনকি আস্তানা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার ডাবল রেললাইন স্থাপন ও ১১ স্টেশন ডিজিটালাইজড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। পরে আরও সোয়া ২ শ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে যৌথভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও চীনের মেসার্স সিআরএম জয়েন্ট ভেঞ্চারের (সিআরএমআইই চায়না, রেনক্যান চায়না ও এমপিএল বাংলাদেশ)। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুসারে ২০১১ সালের ২নভেম্বর কাজ শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানান জটিলতায় দুদফা ডিপিসি সংশোধনের পর অবশেষে চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পেরেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ডাবল লাইন প্রকল্পটি চালু হলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুত সময়ে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলে প্রায় এক ঘণ্টা এবং মালবাহী ট্রেন চলাচলে কয়েক ঘণ্টা সময় কমবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নতুন এ লাইনে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগের লাইন স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রেন ১৫ থেকে ২২ ঘণ্টা ঢাকায় পৌঁছায়। মূলত যাত্রীবাহী ট্রেনকে সুযোগ দিতে অধিকাংশ সময় পণ্যবাহী ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন স্টেশনে বসিয়ে রাখা হয়। নতুন ডাবল লাইন চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত হবে। এদিকে একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী লাকসাম-আখাউড়া ৭১কিলোমিটার ডাবল রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও চট্টগ্রাম রেলওয়ের রি-মডেলিং কাজেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনে আর সিঙ্গেল লাইন থাকবে না। লাকসাম-আখাউড়া ৭১কিলোমিটার ডাবল রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুব অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে রেলপথে যাতায়াত করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন প্রোগ্রাম থাকায় তিনি ইচ্ছা থাকা সত্বেও লাকসামে এসে এই উদ্বোধন করতে পারছেন না। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উদ্বোধন ঘোষণা সহ লাকসাম-আখাউড়া ৭১কিলোমিটার ডাবল রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও চট্টগ্রাম রেলওয়ের রি-মডেলিং কাজেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...