‘চুরি করতে দেখে ফেলায় জলিল কাকাকে কাঁচি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করি’ : মুরাদনগরে ঘাতক দেলুর স্বীকারোক্তি

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :–

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের মৃত আলতাব আলীর ছেলে নিরীহ আব্দুল জলিল (৬৫) হত্যার রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটিত হয়েছে। ঘাতক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু হত্যাকান্ডের কথা অপটকে স্বীকার করেছে। এ ছাড়াও ৩ জন স্বাক্ষী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে।
জানা যায়, মোচাগড়া মোল্লা বাড়ির মোড়ে মুদি দোকানদার সাদ্দাম হোসেন দোকানে মালামাল ক্রয় করার জন্য ৪০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে একই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু ওই দোকানে চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মতে সাদ্দাম হোসেন রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুকে পাশের একটি বন্ধ দোকানের সামনে চকির মধ্যে বসা থাকতে দেখে। রাত অনুমান ১১টায় সাদ্দাম হোসেনের দোকানের তালা ভাঙতে দেখাই কাল হয়ে দাঁড়ায় নিরীহ আব্দুল জলিলের। ঘটনাটি যদি প্রকাশ করে দেয় সন্দেহে দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু নিরপরাধ বৃদ্ধ আব্দুল জলিলকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়। তখন চুরি করতে দেখে ফেরার সন্দেহে সাদ্দাম হোসেনের দোকানের কাঁচি দিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল জলিলকে খুঁচিয়ে খুঁচিেেয় হত্যা করে লাশ দোকানের পাশেই ফেলে যায়। ঘটনার সময় দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু রোবকা ও মুখোঁশ পড়া ছিল বলে জানা গেছে। হত্যাকান্ডের পর পরই দেলু বাড়িতে গিয়ে তার বাবা আব্দুস ছাত্তারের পায়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে এবং বলে আব্বা আমি জলিল কাকাকে মেরে ফেলেছি। এ কথা শোনামাত্রই আব্দুস ছাত্তার অজ্ঞান হয়ে গেলে বাড়ির লোকজন মাথায় পানি ঢেলে তাকে সুস্থ্য করে। এ নিয়ে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন যাবত প্রকৃত ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তুু পুলিশী তদন্তে ও স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডের তীর দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুর উপর গিয়ে গড়ায়। দীর্ঘ ৪০ দিন পর পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে উক্ত হত্যাকান্ডের মূল নায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোনা মিয়ার ঘর থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের কথা অপটকে স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে কোর্ট হাজতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উক্ত ঘটনায় স্বাক্ষী হিসেবে এলাকার মৃত নুরুজ্জামানের স্ত্রী রানুয়ারা বেগম (৪২), মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে মানিক মিয়া (৩৪) ও নিহত আব্দুল জলিলের মেয়ে আছমা আক্তার (২৫) সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট রাজিয়া সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দেন। উল্লেখ্য, ৪ মার্চ বুধবার আব্দুল জলিল বাড়ী উপজেলার ছিলমপুর গ্রামের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে বড় মেয়ে নবীপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের বাড়ীতে গিয়ে রাতে আর বাড়ি ফিরেনি। বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান ৮টায় মোল্লা বাড়ীর মোড়ে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় এলাকাবাসী তার লাশ দেখতে পায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই মাহবুবুর রহমান পিপিএম জানান, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পালা। অনেক আগেই ঘটনাটি উদঘাটিত হতো। একটি মহলের হুমকি-ধমকির কারণে স্বাক্ষী-প্রমান পেতে এতদিন দেরী হয়েছে।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, অপরাধ করে কেউ কোনদিন রেহাই পায়না। একদিন না একদিন ধরা পড়বেই। এতে কোন সন্দেহ নেই। যার বাস্তব প্রমান আব্দুল জলিল হত্যাকান্ড। উপজেলার অপর হত্যাকান্ডের রহস্যও উদঘাটন করার জন্য পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...