কুমিল্লায় ছাত্রলীগের গুলিতে ছাত্রলীগ শহর সভাপতি নিহত

কুমিল্লা প্রতিনিধি:–

কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় কুমিল্লা জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কর্মীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়। রোববার সকাল ৯টায় কুমিল্লা নগরীর মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুলের নেতৃত্বে একটি পক্ষ কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারি। আর সাধারণ সম্পাদক সুমন দাসের নেতৃত্বে অপর পক্ষ রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকের অনুসারী।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, কর্মীসভা শেষে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের অনুসারীরা ছাত্রলীগের অপর পক্ষ সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সাইফুল গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন- কর্মীসভার শুরু হলে সাংসদের অনুসারীরা তাদের টাউন হলে প্রবেশে বাধা দেয়। সভা শেষে উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এর মধ্যে গোলাগুলি হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, শনিবার বিকেলে হামলায় সাইফুল ইসলাম গুলি, ধারালো অস্ত্রের কোপে ও লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন। মুমুর্ষ অবস্থায় নগরীর মুন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল রোববার সকালে ৯টায় তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য সাইফুলের লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য- শনিবার বিকাল তিনটায় নগরের কান্দিরপাড় এলাকার কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের কর্মিসভা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম উপস্থিত ছিলেন। বিকেল পাঁচটা ১০ মিনিটে কর্মিসভা শেষ করে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গাড়িবহর টাউন হল থেকে বেরিয়ে যায়।

এর পরপরই রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। তখন কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি গুলি ছোড়ে। এ সময় সাংসদ বাহাউদ্দিনের অনুসারী কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে কান্দিরপাড় এলাকার একটি দোকানের সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বুকের পাশে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঁড়ির মধ্যে পড়ে ছিলেন সাইফুল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা নগরের ঝাউতলা এলাকার মুন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৭ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। সাইফুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কান্দিরপাড় এলাকায় শতাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। তখন এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর পুনরায় গুলি করে। এ সময় পিস্তল, কাটা রাইফেল, বন্দুক, দা, ছেনিসহ উভয় পক্ষকে সশস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়। ছিল উঠতি বয়সী ছেলেদের পিঠে অস্ত্রভর্তি ব্যাগও। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন নগরের মুন হাসপাতালে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে দেখতে যান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...