হুমকির মুখে কুমিল্লার দেশীয় দু’শতাধিক প্রজাতির মাছ : কিটনাশকের প্রভাব ও অভয়াশ্রমের অভাবই কারণ

মো. জাকির হোসেন :—

এক সময়ের খরস্রোতা গোমতী এখন হাটু জলের নদী। এ নদীতে জেলেদের ব্যস্ততা নেই আগের মতো। একসময় কুমিল্লার খাল-বিল-ডোবায় অহরহ দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও ক্রমেই তা কমে আসছে। ফসলের মাঠের কিটনাশকের প্রভাব, বংশবৃদ্ধি না হওয়া ও নিরাপদ অভয়াশ্রমের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ।
কুমিল্লার বেশ কিছু বিল একসময় খ্যাত ছিল দেশীয় মাছের জন্য। এছাড়াও দাউদকান্দি, তিতাস, হোমনা, গৌরিপুর, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, মুরাদনগরের পাহাড়পুর, ছালিয়াকান্দি, জাহাপুর, বাবুটিপাড়া, কৃষ্ণপুর, দুলালপুরের দেশীয় মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বাজারজাত হতো রাজধানীসহ আশেপাশের জেলায়। চান্দিনার ঘুঘরার বিল এর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু ক্রমেই বিলীন হয়ে যেতে বসেছে দেশীয় মাছ।
জানা যায়, একসময় কুমিল্লার খাল-বিলগুলোতে ২শ’ত ৬৬ প্রজাতির দেশীয় মিঠা পানির মাছ ছিল যা বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ৫০ প্রজাতিতে। জলবায়ুু পরিবর্তন ও পানি দূষণের ফলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব পুরোপুরিই হুমকির মুখে। নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, খালবিল ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ, মাছের আশ্রমের পাশে কীটনাশক ব্যবহার, অপরিকল্পিত বাধ নির্মাণ ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন এসব দেশীয় মাছ বিলীনের অন্যতম কারণ। জেলার চান্দিনা উপজেলায় অবস্থিত ঘুঘরার বিলটির দৈর্ঘ্য ১৫ এবং প্রস্থে প্রায ৮মাইল। একসময় এ বিলটি থেকে বিপুল পরিমান মাছ আহরণের মধ্যে জীবীকার্জন করলেও এখন এ পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন অনেকেই। বৃহৎ এ বিলটি পরিপূর্ণ ছিল দেশীয় মাছে। বোয়াল, গজার, শোল, মাগুর, আইড়, শিং, টেংরা, কৈ, পাবদা, চাপিলা, বাঘাইর, র”ই, কাতলা, বুজুরি, টাকি, সরপুটিঁ, কাঞ্চনপুটিঁ, জাতপুটিঁ, চিংড়ি, বাটা, ভাংনা, কাজলি, পুটিঁ, মেনি, বাইন, দাড়কিনা ইত্যাদি মাছ অহরহ পাওয়া যেত ঘুঘরার বিলে। প্রাকৃতিক উপায়ে প্রজনন হত এসব মাছ। বর্ষার পরও এসব মাছ পাওয়া যেত ডোবা ও খাটিতে। মৎস অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৫৪প্রজাতির দেশীয় মাছের অস্তিত্ব একেবারে হুমকির মুখে। এছাড়াও মহাহুমকির মুখে রয়েছে ১২ প্রজাতির মাছ। এগুলো হল- রিটা, বাঘা, নান্দিনা, জাঙ্গল, আইড়, খাইড়া চেনুয়া, মহাশোল ইত্যাদি। দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় মাছের মধ্যে রয়েছে চেলাপাতা, কশিখয়রা, মলা, দাড়কিনা, রানী, চান্দা, লাল চান্দা, তিতপুটি, নেফতানি, নাপিত কৈ, গুতুম, বাঘা গুতুম, বাশপাতা, লাঙ্গাটালু, গোলা, বালুগড়া, চাপিলা, বাউশ, গজার, পাবদা, কাঙলা, চিতল, মেনী, মধু, তারা বাইন, কাকিলা, ইত্যাদি। মৎস বিশেষজ্ঞদের মতে এসব মাছ রক্ষায় প্রয়োজন অভয়াশ্রম। পানি যদি কিটনাশকমুক্ত মাছের বসবাসের উপযোগী করা না যায় তবে তা মাছের বংশবিস্তারই নয় অস্তিত্ব রক্ষাই তখন হুমকির মুখে পড়বে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...