নাঙ্গলকোটে ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে

মো. আলাউদ্দিন :–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কোথাও বাধ্য হয়ে একই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাওগোদা, বানাবাড়িয়া, লক্ষীপুর, আদ্রা ঊষা এনায়েতিয়া, ভোলাকোট, দৌলখাঁড়, আতাকরা, তপোবন নুরজাহান বেগম, কিনারা, নোয়াপাড়া, বাম, উত্তর শাকতলী, মোগরা, রায়কোট, আলীয়ারা, ময়ুরা, পাটোয়ার, মক্রবপুর, আজিয়ারা, মন্নারা, বড়কালি, পুজকরা (পশ্চিম), চাটিতলা ও আদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর অবস্থা এমন যে, অতিশীগ্রই নতুন ভবন নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া যেসব বিদ্যালয় সংস্কার করা প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছেÑ পুজকরা (পূর্ব), পূর্ব ভাতড়া, মঘুয়া, আলহাজ্ব ছেরাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোমকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে জানা যায়, উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের বানাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ১৯৯৫ সালে নির্মাণের ১২ বছর পর ২০০৭ সালে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু শিক্ষকেরা তারপরও আরো পাঁচ বছর পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেন। ২০১১ সালের শেষের দিকে তৎকালীন শিক্ষা অফিসার শাহ ইকবাল মনসুরের মৌখিক নির্দেশে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবন ছেড়ে সাড়ে তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ের সভাপতির বাড়ির কাচারিঘর এবং ঘরের বারান্দায় ক্লাস নিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতির কাচারিঘর ও বারান্দায় ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পাঠদান করা সম্ভব হয় না। আমরা জরিপ করে বিদ্যালয়ে গমনেচ্ছু প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরী করেছি; কিন্তু ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা এখানে না এসে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালীর সেনবাগের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ে কোনো টিউবওয়েল ও শৌচাগার না থাকার কারণেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অব: লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মকবুল আহম্মদ বলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করলেও ভবন নির্মাণে এখনো কোনো সহযোগিতা পাইনি।
নাঙ্গলকোট পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ দু’টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছেÑ নাওগোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যটি আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাওগোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ক্ষুদ্র মেরামত এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে এবং পর্দার পার্টিশন দিয়ে মাত্র তিন রুমের মধ্যে কোনোভাবে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষটি এখনো পরিত্যক্ত ভবনেই রয়েছে।
পুজকরা (পূর্ব) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনটির ছাদ ও পিলার থেকে ইট-সুরকি খসে পড়ছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষের ছাঁদ ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
রায়কোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সাল থেকে নতুন ভবন নির্মাণ এবং আসবাবপত্র ছাড়াই কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের আওতায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দু’টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভবন জরাজীর্ণ। এলাকাবাসীর সহায়তায় দুই রুমের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ভবন ও আসবাবপত্রের সমস্যা নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের এসএমসি সদস্যরা নাঙ্গলকোট-চৌদ্দগ্রাম সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সদ্য জাতীয়করণ করা আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সঙ্কটে এলাকাবাসী নিজস্ব উদ্যোগে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেন। বিদ্যালয়ে মাত্র তিনটি রুম রয়েছে। জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় কক্ষ না থাকায় অফিস কক্ষে শিশু শ্রেণীর ক্লাস নেয়া হয়।
দক্ষিণ বায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ময়ূরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। জরাজীর্ণ ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নবীর উদ্দিন বলেন, উপজেলার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো পুনঃনির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...