নাসিরনগরে পানির অভাবে সহস্রাধিক একর ইরি এখন বিরান ভূমি

 

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :–
এক সময়ে বড়-ছোট অসংখ্য জলযানের চলাচল ও মাঝি-মাল্লাদের কোলাহলে মুখরিত ছিলো যে নদ-নদী ,দিনে-রাতে নদীগুলোতে পাল তুলে,দাড়ঁ বেয়ে -গুন টেনে যাতায়াত করতো মালামাল ও যাত্রীবাহী অনেক নৌকা-বজরা। বর্তমানে পানি শূন্য এসব নদীবক্ষে এখন পূর্ণ উদ্যোমে চলছে ইরি-ব্রি-ধানের চাষাবাদ। নদী-খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় সেচ ব্যবস্থা না থাকায় ফসলহানির আশংকায় ভুগছেন কৃষকরা।
নাসিরনগর উপজেলার বিল উরল,সিংড়া ও তিতাস নদী এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার মানুষের মধ্যে এখন পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ সেচ সংকট। বিল উরল- তিতাস নদীর শাখা উপ শাখার সাথে সংযুক্ত। নাসিরনগর-সরাইল উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিস্তৃত শুকিয়ে যাওয়া তিতাস নদী। দেখা দিয়েছে পানি শুন্যতা। অকেজো হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক নদী নির্ভর সেচ পাম্প। সহস্রাধিক ইরি বোরো জমি এখন বিরান ভূমি। চরম বিপাকে পড়েছেন নাসিরনগর ও সরাইলের কৃষকরা। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সরাইল-নাসিরনগরের সীমানা কুন্ডা গ্রামের রঙ্গন নামক ইটভাটার দক্ষিণ পাশ থেকে বেমালিয়া খালের উৎপত্তি। আর সরাইলের অরুয়াইল থেকে মেঘনা নদীর উৎপত্তি । এ দুই নদীর সাথে সংযুক্ত তিতাস নদী। আর তিতাসের শাখা প্রশাখা নাসিরনগর ও সরাইলের বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলি মাঠের মাঝ দিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। উৎস নদীসমূহের স্রোতাধারা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় বর্তমানে নদীর নব্যতা হ্রাস পেয়ে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে ফেঁটে চৌচির এখন তিতাসের শাখা সমূহ। বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার শতাধিক নদীর পানি নির্ভর সেচ পাম্প। পানির জন্য এখন খাঁ খাঁ করছে সহস্রাধিক একর ইরি বোেরা ধানের জমি। নদীর কোথাও নেই পানি। ফসলি জমি গুলোতে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। রোদে পুড়ে লালচে হয়ে গেছে ধান গাছ। ধার দেনা ও মহাজনি চড়া সুদে টাকা এনে অনেক কৃষক জমি চাষ করেছেন। কৃষকরা চোখে সরিষা ফুল দেখছেন ।

Nasirnagar (M)Picture-2

উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ ফারুক মিয়া বলেন আমার এ বয়সে কোন দিন তিতাস নদী শুকিয়ে যেতে দেখিনি আর এখন পায়ে জুতা পড়ে নদীতে হাঁটছি সত্যিই অবাক লাগছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাক্ষণশাসন গ্রামের এডভোকেট আব্বাস উদ্দিন,জেঠাগ্রামের কৃষক মোঃ কাচু মিয়া(৬৫),মাহফুজ মিয়া(৫৫),অবসর প্রাপ্ত ব্যাংকার শোয়েবুর রহমান খান (৬০), সার ব্যবসায়ী ফকির চান ও ফয়েজ আহমেদ জানায়, বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জম্মের পর এই প্রথম উরল বিল,সিংড়া নদী শুকিয়ে যেতে দেখেছি। আর এখন পানির অভাবে নদীর তলদেশ ফেঁটে চৌচির। এই নদীর তলদেশে ধান চাষাবাদ হলেও এই নদকে ঘিরে গড়ে উঠা সেচ ব্যবস্থা একেবারেই অচল হয়ে পড়েছে। তবে কোন কোন কৃষক বেমালিয়ার খাল খননের ফলে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করছেন। ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, কুন্ডা পুরান বাজার থেকে জেঠাগ্রাম মৌজার উরল বিলে উজান পর্যন্ত খনন জরুরী। তাই সহস্রাধিক ফসলি জমি বাঁচাতে তারা দ্রুতই মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...