কুবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর!! অস্ত্রের মহড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা :–

খাবার টেবিলে বসাকে কেন্দ্র করে নিজ সংগঠনের কর্মীর মাথা ফাটিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দেশীয় আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে বুধবার দুপুরে ক্যাস্পাসের গেটে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাম্বুলেঞ্জ ভাংচুর করা হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে বিএফজি নামের হোটেলে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মাথা ফাটানোর ঘটনা ঘটে। ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৫ম ব্যাচে শিক্ষার্থী সঞ্জয় দেবনাথ, শেখ মোঃ মঞ্জু (গনিত) ও নাঈমুর রহমানের সাথে (ব্যবস্থাপনা শিক্ষা) একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাৎ হোসেন সৌরভ, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশ টেকনোলজি বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল খন্দকারের সাথে খাবারের টেবিলের চেয়ার নিয়ে বাকবিতান্ডা হয়। এক পর্যায়ে সৌরভের মাথায় কোকাকোলার বোতল দিয়ে সঞ্জয় আঘাত করলে সৌরভের মাথা ফেটে যায়। তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। সঞ্জয় দেবনাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহবায়কের সমর্থক এবং শহাদাৎ হোসেন সৌরভের ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজের সমর্থক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ মঙ্গলবার রাতে আবাসিক হলগুলোর কর্মীদের নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেয়। এতে দুই পক্ষই বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর অংশ নেয় বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানায়।
এ দিকে বুধবার অভিযুক্ত সঞ্জয় দেবনাথের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাম্বুলেঞ্জে করে তাকে অনুষদে নিয়ে আসছিলেন সহকারী প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দীকি রানা। এ্যাম্বুলেঞ্জটি ক্যাম্পাসের ফটকে আসতেই ফটক বন্ধ করে দেয় ইলিয়াসের সমর্থকরা। তারা গাড়িতে থাকা সঞ্জয়কে ছিনিয়ে নিতে চাইলে বাধা দেন সহকারী প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দীকি রানা। এতে তারা সাথে ইলিয়াস সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রক্টর মোঃ আইনুল হক। এক পর্যায়ে প্রক্টরের সাথেও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ইলিয়াস সমর্থকরা সঞ্জয়কে বহনকারী এম্বুলেন্স ভাংচুর করে। ভাংচুরের সময় সঞ্জয় এস্বুলেন্সের ভিতরেই অবস্থান করছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আশরাফ ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এর আগে সঞ্জয়ের বিচারের দাবিতে ও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলীপি প্রদান করে ইলিয়াস সমর্থকরা।
এ ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনার বিচার দাবি ও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা মিছিল করতে গেটে জড়ো হই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ আইনুল হক বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনায় প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে এবং আজকের (বুধবার) ঘটনার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ভাংচুরের ঘটনায় প্রশাসন মামলা করবে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডির জরুর সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...